সারা বাংলা

ফরিদপুরে মহাসড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

এক কিলোমিটার দেবে গেছে

কে এম রুবেল, ফরিদপুর: পাথরভর্তি ১০ চাকার ট্রাক চলাচলের কারণে ফরিদপুরে মহাসড়কের এক কিলোমিটার অংশ দেবে গেছে। এ অবস্থায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে সব ধরনের যানবাহন। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের এক পাশের এমন অবস্থা থাকলেও এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি ফরিদপুর সড়ক বিভাগ।

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ফরিদপুর সদরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া সেতু থেকে শুরু করে দক্ষিণে মুসলিম মিশন কলেজ পর্যন্ত এই এক কিলোমিটার সড়কের পূর্ব অংশ দেবে গেছে।

ওই এলাকায় দিয়ে দেখা গেছে, সাদা রং দিয়ে চিহ্নিত করা। সড়কের মধ্যভাগের পূর্বপাশের অংশে ট্রাকের চাকা বরাবর চাপে সড়কটি দুই ফুট করে দেবে গেছে। দেবে যাওয়া ওই অংশের গভীরতা দুই থেকে তিন ইঞ্চি পর্যন্ত। সড়কের পাশে নেই কোনো অ্যাপ্রোচ সড়ক। ফলে বড় যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে।

কোমরপুর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসনা বলেন, পাথর ভর্তি ১০ চাকার ট্রাক চলায় সড়কের এ সর্বনাশ হয়েছে। গত দেড় বছর ধরে সড়কের ওই অংশ দেবে আছে। অথচ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি সড়ক বিভাগ।  বর্তমানে তীব্র রোদের কারণে প্রতিনিয়ত দেবে যাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।

ফরিদপুর সদরের বৈঠাখালী গ্রামের বাসিন্দা ইজিবাইক চালক সুমন ইসলাম বলেন, গাড়ি চালিয়ে ফরিদপুর শহর থেকে বাড়িতে অসতে কোনো সমস্যা হয় না, বিপদে পড়ি শহরে যাওয়ার পথে। সড়কের যে অবস্থা তাতে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা বড় বিপদে আছি। অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় যানবাহনের কারণে প্রায়ই পথচারীদের পাশের খাদে পড়ে যেতে হয়।

কোমরপুর বাসস্ট্যান্ডের চায়ের দোকানদার রব্বানী বেগম বলেন, বৃষ্টি হলে মানুষের সমস্যার শেষ থাকে না। খাদে জমে থাকা পানি গাড়ির চাকায় ছিটকে পড়ে পথচারীদের কাদা-পানিতে ভিজিয়ে দেয়।

বাহিরদিয়া এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, সড়কের ওই অংশে প্রতিদিন ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষ আহত হচ্ছে, ইজিবাইক উল্টে যাচ্ছে। এ অবস্থার দ্রুত প্রতিকার দরকার।

অম্বিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, মহা সড়কের ওই এক কিলোমিটার অংশের অবস্থা খুবই নাজুক। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হয়, পথচারীদের চলতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কের ওই অংশটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।

ফরিদপুর সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল হোসেন বলেন, মহাসড়কে সংস্কারকাজ এক বার হলে তিন বছরের মধ্যে আর করা যায় না। ওই অংশে সর্বশেষ সংস্কারকাজ হয়েছে আড়াই বছর আগে। ফলে ইচ্ছে থাকলেও আমরা সংস্কারকাজ করতে পারছি না।

তিনি আর বলেন, সড়কের বাহিরদিয়া সেতু থেকে রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প সড়ক বিভাগে জমা দেয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পের মধ্যে সড়কের ওই অংশ কেটে সমান করে তার ওপরে একটি প্রলেপ দেয়া হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..