সারা বাংলা

ফরিদপুর শহররক্ষা বাঁধের ১৫ কিমি ভাটা মালিকের দখলে

প্রতিনিধি, ফরিদপুর: ফরিদপুর শহররক্ষা বাঁধের টেপাখোলা সøুইজ গেট থেকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মহাসড়ক পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার খালে অর্ধশতাধিক বাঁধ দিয়েছে ৩৭ ইটভাটা মালিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। ফলে খালটিতে আসা পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে এখন ছোট ছোট গর্তে পরিণত হয়েছে।
ফরিদপুর সদর উপজেলার মনোডাঙ্গী এলাকায় পদ্মা নদীর উৎসমুখে পানি আসার পথে বাঁধ নির্মাণ করায় পানিশূন্য হয়ে পড়েছে ১৫ কিলোমিটারের বেড়িবাঁধ খালটি। এতে খালপাড়ের কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মিলন পালের এমপিএ, মুজিবুর মাতুব্বরের এমএমবি, ওয়াহিদ মিয়া কুটির এমজেডএম, আবদুল লতিফ মিয়া, মহসীন শরীফ, শাহজাহান, খলিফা কামাল, সরোয়ার হোসেন, জলিল খান, রেজওয়ান মোল্যাসহ ২৫ মালিকের ৩৭টি ইটভাটা মালিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইটভাটায় ট্রাক প্রবেশের জন্য ৩০ ফিট চওড়া খাল বন্ধ করে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। এ নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের কৃষক কামরুল মাতুব্বর জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের খালটি ইটভাটার মালিকরা রাস্তা নির্মাণ করে দখল করেছেন। সরকারি জায়গা তো সাধারণ মানুষ দক্ষল করে না। এগুলো সরকারি কর্তা ব্যক্তিরা দেখবে না।
ডিগ্রিরচর এলাকার অটোচালক রফিকুল মণ্ডল জানান, বেড়িবাঁধের এ খাল অনেক চওড়া ছিল, নৌকা চলাচল করত, খালের পানি ফসলে মাঠে সেচ দেওয়া হতো, আর এখন পানিই নেই খালে। খালে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে এখন ছোট ছোট গর্তে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় আবদুর রাজ্জাক নামের এক কৃষক জানান, যে জমিতে ফসল ফলাতাম সেটি এখন ইটভাটা। তারপর বাকি যে জায়গাটুকু আছে তাতেও কৃষি কাজ করা যাচ্ছে না। আশেপাশে পানি উঠানো কোনো মেশিন বসানো নেই। আগে এ খালের পানি দিয়েই সেচের কাজ চলত। এখন তো ভাটা মালিকরা খাল বন্ধ করে দিয়ে রাস্তা বানিয়েছে।
গফুর তালুকদার নামে আরেক কৃষক জানান, শুধু কি খাল বন্ধ করেছে। ইটের ভাটায় ব্যবহƒত হচ্ছে ট্রাক্টর। এসব ট্রাক্টর কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য সরকার ভর্তুকি দেয়। সেই ট্রাক্টর দিয়ে চলছে পরিবেশ ধ্বংসকারী ইটভাটার মাটি আনা নেওয়ার কাজ।
ইটভাটা মালিক মুজিবর মাতুব্বর দাবি করেছেন, খালের ওপর প্রত্যেক ইটভাটা মালিক যে অংশটুকু ভরাট করেছে তা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ থেকে লিজ নেওয়া।
ফরিদপুরের সাংস্কৃতিক কর্মী প্রফেসর আবুল কাশেম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কীভাবে খালটি দখল হলো তা সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের এখনই লক্ষ করার দরকার, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে খালটি দখলমুক্ত করতে হবে।’
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বেড়িবাঁধ খাল দখল প্রসঙ্গে বলেন, ‘ইটভাটা মালিকে খাল বন্ধ করে রাস্তা করার জন্য কোনো জমি লিজ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তাদের নজরে ছিল না। অবশ্যই এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..