প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ফল উৎপাদন ঘিরে বাড়ুক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড

সুস্বাস্থ্যের জন্য ফলের বিকল্প নেই। সুস্থ-সবল জাতি গঠনে এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ফল চাষ করে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে এবং আরও বেশি আয় করা সম্ভব। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যমতে, ফল উৎপাদনশীলতায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ২৮তম।

শুক্রবার শেয়ার বিজের শিরোনাম, ‘ফল উৎপাদনে আরও এগিয়ে বাংলাদেশ: দুবছরে বেড়েছে ১০ শতাংশ’। আগের ১০ বছরে উৎপাদন বেড়েছে ১০ শতাংশ আর শেষ দুই বছরেই বেড়েছে ১০ শতাংশ। আগের ১০ বছরের সঙ্গে পরের দুই বছরের তুলনা করলে বলা যায়Ñফলের উৎপাদন দ্রুততার সঙ্গে বেড়েছে।

দেশে আম, লিচু, পেয়ারা, কলা, কাঁঠাল প্রভৃতি ফলের চাষ হয়। এসব ফল বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য বৃহৎ পরিসরে অনেকে বাগান করছেন। গ্রামাঞ্চলে প্রায় সব বাড়িতে এসব ফলের গাছ দেখা যায়। নিজেদের উৎপাদিত ফল দিয়ে চাহিদা পূরণ করছে মফস্বলের লোকজন। আবার বাণিজ্যিকভাবে ফল চাষ করে লাভবান হয়েছেন অনেকে।

দেশে অনেক আগে থেকেই রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁয় উন্নত জাতের আম চাষ হচ্ছে। এ ফল এখন চাষ হচ্ছে অন্যান্য জেলায়ও। দেশে চাহিদা মিটিয়ে প্রচুর পরিমাণে আম রফতানি হচ্ছে। অন্যদিকে পেয়ারা, লিচু, মালটা, বরই, আনারস প্রভৃতি চাষেও সফলতা পেয়েছেন চাষিরা।

লক্ষণীয়, বর্তমানে ১৮ প্রজাতির ফল বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়। এসব রফতানি করে সফলতা পাওয়া গেছে। আরও ৪৫ প্রজাতির ফল বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের তালিকায় রয়েছে। এসব ফল রফতানি প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তির জন্য কর্তৃপক্ষকে আরও

জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে ৮৪টি নতুন ফলের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ছয়টি উন্নত জাতের ও বেসরকারিভাবে উদ্ভাবিত আরও কয়েকটি জাতের পেয়ারা বিপ্লব ঘটিয়েছে দেশে। আম ও লিচুর ক্ষেত্রেও চাষিরা সফল বলা যায়।

বেশি লাভের আশায় অধিক ধানি জমিতে যেন ফল চাষ না হয়, সেদিকেও কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে। অবাধে ফল চাষ করলে একসময় ধানসহ জরুরি খাদ্যশস্য চাষের জন্য

জমির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শুধু লাভজনক কয়েকটি ফলের চাষ বাড়ালেই হবে না। দেশে বিলুপ্তপ্রায় যেসব ফলের জাত রয়েছে, সেগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে। ফল গবেষণাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা চাই। এতে উন্নত ফলের জাত উদ্ভাবন করতে পারবেন তারা।

অনেক সময় অভিযোগ ওঠে, ফলের উৎপাদন ভালো হলেও লাভজনক দাম পান না চাষিরা। এজন্য ফল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। আর ফলে যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশাতে না পারে, সেজন্য চাই জোরালো মনিটরিং। আগের চেয়ে এ ব্যাপারে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে সরকার। ফলে ফরমালিন বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল নেইÑএ বিষয়ে

পরিপূর্ণ নিশ্চয়তা চায় দেশের মানুষ।

ফল উৎপাদন বাড়িয়ে শুধু এর ভোগ ও রফতানি বাড়ানো নয়, কৃষিভিত্তিক শিল্পকেও এ দিয়ে আরও জোরদার করতে হবে। ফ্রুট প্রসেসিংয়ে এগোনোর সুযোগ আমাদের আরও রয়ে গেছে।