কোম্পানি সংবাদ

ফাইন ফুডসের দর বেড়েছে ২৫ দশমিক ৮২ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফাইন ফুডস লিমিটেড গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ২৫ দশমিক ৮২ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে তিন কোটি ৬৩ লাখ চার হাজার ৮০০ টাকা। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ ১৮ কোটি ১৫ লাখ ২৪ হাজার টাকা।

সর্বশেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের দিনের চেয়ে পাঁচ দশমিক ১২ শতাংশ বা এক টাকা ৯০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৩৯ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৩৮ টাকা ৫০ পয়সা। দিনজুড়ে ১৫ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭৫টি শেয়ার দুই হাজার ২৪৪ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর পাঁচ কোটি ৯৭ লাখ ১০ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৩৭ টাকা ১০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩৯ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ২৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৫৪ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২২ পয়সা, আগের বছর একই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২১ পয়সা। দুই প্রান্তিকে জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময় ইপিএস ছিল ৪১ পয়সা। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ১০ টাকা ৬৪ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১০ টাকা ৮১ পয়সা।

কোম্পানির ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১৩ কোটি ৫৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ এক কোটি ১৩ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত   আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের জন্য দুই শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল, যা আগের বছরের সমান। এই সময় ইপিএস করেছিল ৬৫ পয়সা এবং এনএভি দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা পাঁচ পয়সা। এটি আগের বছর ছিল যথাক্রমে ৮১ পয়সা ও ১০ টাকা ৬০ পয়সা।

মোট এক কোটি ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯১২টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে এক দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ ও ৯৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এপেক্স ফুডস লিমিটেড। এ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ২৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন চার কোটি পাঁচ লাখ ৯০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার।

সর্বশেষ কার্যদিবসে শেয়ারদর দুই টাকা ২৫ পয়সা বা তিন টাকা ৯০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ১৭৬ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১৭৪ টাকা। দিনজুড়ে তিন লাখ ১৭ হাজার ৮৯৬টি শেয়ার মোট এক হাজার ৩৭৭ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর পাঁচ কোটি ৪৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১৭০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৭৬ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়। আর এই দরই হলো গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দর। এক বছরে শেয়ারদর ১২৫ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১৭৬ টাকা ৯০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

কোম্পানিটি ১৯৮১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ৩০ জুন ২০১৭ পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাববছরে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে, যা আগের বছরের সমান। ওই সময় ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৫৬ পয়সা এবং এনএভি ১১৫ টাকা ১০ পয়সা। এটি আগের বছর শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল দুই টাকা ৩২ পয়সা ও এনএভি ১০৮ টাকা ৬১ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী আয় করেছে ৮৯ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা আগের বছর লোকসান ছিল এক কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

১৫ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন পাঁচ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৩৫ কোটি আট লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট ৫৭ লাখ দুই হাজার ৪০০টি শেয়ার রয়েছে।

ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৩৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৪৬ দশমিক ৪০ শতাংশ শেয়ার।

তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা ইনটেক লিমিটেডের শেয়ারদর বেড়েছে ২১ দশমিক শূন্য আট শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড়ে এক কোটি ৯৭ লাখ ৫১ হাজার ৪০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে ৯ কোটি ৮৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

সর্বশেষ কার্যদিবসে শেয়ারদর এক দশমিক ৪৬ শতাংশ বা ৩০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ২০ টাকা ৩০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২০ টাকা ১০ পয়সা। দিনজুড়ে ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৮৬৯টি শেয়ার মোট ৮৭৩ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর দুই কোটি ৭৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনি¤œ ২০ টাকা থেকে ২১ টাকায় হাতবদল হয়। এক বছরে শেয়ারদর ১৩ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ২৪ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৯ পয়সা এবং এনএভি হয়েছে ১১ টাকা ২০ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে দুই কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের ২০ দশমিক ১৭ শতাংশ, অগ্নি সিস্টেমস ১৯ দশমিক ৯০ শতাংশ, মেট্রো স্পিনিং ১৯ দশমিক ৮২ শতাংশ, সেন্ট্রাল ফার্মা ১৭ দশমিক ২২ শতাংশ, ইয়াকিন পলিমার ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ, ফু-ওয়াং ফুড ১৬ দশমিক ২৯ শতাংশ ও রংপুর ডেইরির ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ দর বেড়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..