দিনের খবর শেষ পাতা

ফাইন ফুডসের মালিকানায় আসছে দেশের বৃহৎ একটি শিল্পগ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফাইন ফুডসের মালিকানা ও পরিচালনায় আসছে দেশের বৃহৎ একটি শিল্পগ্রুপ। এরই মধ্যে গ্রুপটি ১৫ শতাংশের বেশি শেয়ার বাজারদরে কিনে নিয়েছে। পাশাপাশি আগ্রহী আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শেয়ার কিনেছে, যদিও বর্তমানে কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ার আছে পাঁচ শতাংশ। অপরদিকে বিএসইসি’র সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম শেয়ার ধারণের বেঁধে দেওয়া সময়ও শেষ হয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত কোম্পাটির পর্ষদে থাকা পরিচালকরা শেয়ার কেনেননি। ফলে এ কোম্পানির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ার ধারণের পরিমাণ ৩০ শতাংশে উন্নীত করবে বলে জানিয়েছে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফাইন ফুডস লিমিটেড। সম্প্রতি এসইসিতে এক চিঠির মাধ্যমে নির্দেশনা পরিপালনের কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি। এরই মধ্যে দেশের বড় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গ্রুপ ফাইন ফুডসের ১৫ শতাংশের বেশি শেয়ার বাজারদরে কিনে নিয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বাস বিল্ডার্সসহ আরও কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী শেয়ার কিনেছে। কোম্পানিটির ফ্রি-ফ্লোট শেয়ারের বড় অংশই এখন ওই বিনিয়োগকারীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর মধ্যে একটি গ্রুপ কোম্পানির প্রকল্প পরিদর্শন করে এসেছে। এসব শেয়ার এবি সিকিউরিটিজ, এমটিবি ব্যাংক সিকিউরিটিজ এবং এম সিকিউরিটিজের মাধ্যমে কেনা হয়। তবে এসব ব্রোকারেজ হাউসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিষয়টি স্বীকার করেননি।

অপরদিকে বর্তমানে ফাইন ফুডসের মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে মাত্র পাঁচ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এ কারণে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের নির্দেশনা পরিপালনে ২৯ জুলাই ফাইন ফুডসকে চিঠি দেয় এসইসি। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি ফাইন ফুডস কর্তৃপক্ষ এসইসিকে জানিয়েছে, এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম শেয়ার ধারণ করতে ইচ্ছুক। শিগগিরই এ বিষয়ে অগ্রগতি এসইসিকে জানাবে বলে কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দেওয়া চিঠিতে জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র শেয়ার বিজকে জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ওরিয়ন গ্রুপ ফাইন ফুডসের ১৫ শতাংশের বেশি শেয়ার বাজারদরে কিনে নিয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বাস বিল্ডার্সসহ আরও কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর শেয়ার আছে। কোম্পানিটির ফ্রি-ফ্লোট শেয়ারের বড় অংশই এখন ওই বিনিয়োগকারীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এরই মধ্যে একটি পক্ষ প্রকল্প পরিদর্শন করে এসেছে। এসব শেয়ার এবি সিকিউরিটিজ, এমটিবি ব্যাংক সিকিউরিটিজ এবং এম সিকিউরিটিজের মাধ্যমে কেনা হয়েছে। এ কোম্পানির অমূল্যায়িত অনেক জমি আছে। আর ব্যবসা সম্প্রসারণের অনেক সুযোগও আছে। ফলে নতুন ব্যবস্থাপনায় আরও ভালো করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমটিবি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমেটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম মজুমদার শেয়ার বিজকে বলেন, এ ধরনের তথ্য আমার কাছে নেই। আর বিষয়টি আমি দেখি না। অপরদিকে এবি সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ফোনে এসব কথা বলা যাবে না। আমি হাউসে। যারা ট্রেড করেন, তাদের কাছ থেকে জেনে নিন।

২০১৯ সালের ৩০ জুন দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ফাইন ফুডসে পাঁচ পরিচালক রয়েছেন। এর মধ্যে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ছাড়া অন্য সবাই স্বতন্ত্র পরিচালক। নজরুল ইসলামের কাছে কোম্পানির মোট শেয়ারের পাঁচ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। আর কোম্পানির পরিচালক সুজিত সাহার কাছে রয়েছে মাত্র ২৬০টি শেয়ার। এ ছাড়া আরেক স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আলম বিশ্বাসের কাছে তিন হাজার ৬৬০টি শেয়ার রয়েছে। এসইসির নির্দেশনা পরিপালন করতে হলে কোম্পানির মোট শেয়ারের ২৪ দশমিক এক শতাংশ শেয়ার কিনতে হবে। কিন্তু কোম্পানির বর্তমান পরিচালকরা এখনও কোনো শেয়ার কেনার ঘোষণা দেননি।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, ২০১১ সালে এসইসি তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ার ধারণের পরিমাণ ন্যূনতম ৩০ শতাংশ করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করলেও বর্তমানে ৪১টি কোম্পানি তা পরিপালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কমিশন হার্ডলাইনে যাচ্ছেন। এর মধ্যে কিছু কোম্পানিতে উদ্যোক্তা- পরিচালকরা তাদের শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ এবং বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো অপেক্ষাকৃত দুর্বল কিন্তু ভবিষ্যৎ ভালো, এমন কিছু কোম্পানিতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন।

বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সুজিত সাহা শেয়ার বিজকে বলেন, এসব বিষয়ে তো কিছু বললে ইনসাইট ট্রেডিং হয়ে যাবে। আপনি আমাদের কোম্পানির সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

অন্যদিকে ফাইন ফুডসের কোম্পানি সচিব সোহেল হোসেইন শেয়ার বিজকে বলেন, পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এসইসির নির্দেশনা পরিপালন করা হবে, যা আমরা এরই মধ্যে চিঠির মাধ্যমে কমিশনকে জানিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পরিচালক শেয়ার কেনার ব্যাপারে বলেননি বা ঘোষণা দেননি। আর জানালে তো সময়মতো জানানো হবে। আর মালিকানা বদলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তো আমি কিছুই জানি না।

কোম্পানিটির হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রধান আয়ের উৎস হচ্ছে মাছ চাষ। কিশোরগঞ্জে কোম্পানির মূল প্রজেক্ট। এ ছাড়া ময়মনসিংহে আরেকটি প্রকল্প রয়েছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই প্রথম সবচেয়ে বেশি মুনাফায় রয়েছে ফাইন ফুডস। চলতি ২০১৯-২০ হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এক টাকা ৪৪ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৭ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে সাতগুণের বেশি। গত পাঁচ বছরে এই কোম্পানির সর্বোচ্চ আয় ছিল ২০১৬ সালে। ওই সময় কোম্পানির নিট মুনাফা হয় এক কোটি ছয় লাখ টাকা। আর ২০১৯-২০ হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ফাইন ফুডসের নিট মুনাফা হয়েছে দুই কোটি দুই লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ফাইন ফুডসের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আর কোম্পানিটির মোট শেয়ারের সংখ্যা এক কোটি ৩৯ লাখ ৭৩ হাজার। গতকাল কোম্পানিটির সর্বোচ্চ শেয়ারদর ছিল ৯০ টাকা ৯০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ছিল ৮৬ টাকা। আর গত এক বছরের সর্বোচ্চ শেয়ারদর ছিল ১০০ টাকা ৯০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ছিল ৩৪ টাকা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..