খবর দিনের খবর

ফাইভ-জি নীতিমালা জানুয়ারিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহার অনুযায়ী, ২০২১-২৩ সালের মধ্যে দেশে ফাইভ-জি সেবা দিতে পরিকল্পনা ও নীতিমালা প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এই কমিটি ফাইভ-জি প্রযুক্তি প্রবর্তনের লক্ষ্যে আগামী বছরের জানুয়ারি নাগাদ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা এবং পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করবে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন খান।
বিটিআরসি জানায়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৮-এর লক্ষ্য ও পরিকল্পনায় ‘২০২১-২৩ সালের মধ্যে ফাইভ-জি চালু করা হবে’ মর্মে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। নির্বাচনী ইশতেহারের লক্ষ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান বিকাশের ধারাবাহিকতায় সরকার শিগগিরই ফাইভ-জি সেবা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারের ফাইভ-জি সেবা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফাইভ-জি সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা ও একটি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতিনিধি, বিটিআরসির প্রতিনিধি, অপারেটরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে কমিশন থেকে গত ৪ আগস্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ফাইভ-জি প্রযুক্তি প্রবর্তনের রূপরেখা, সম্ভাব্য তরঙ্গ, সম্ভাব্য তরঙ্গমূল্য এবং বাস্তবায়ন সময়কাল প্রণয়ন করবে। সেই সঙ্গে ফাইভ-জির একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করবে। আশা করা যায়, ওই কমিটি আগামী বছরের জানুয়ারি নাগাদ ফাইভ-জিসংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লিখিত সময়ের আগেই ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সহায়তায় ফাইভ-জি সেবা চালু করা সম্ভব হবে।
মোবাইল ব্রডব্যান্ড সেবার সর্বশেষ সংস্করণ হলো ফাইভ-জি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে ফোর-জি প্রযুক্তি অপেক্ষা নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি বহুগুণ বৃদ্ধি করা যায়। এই প্রযুক্তিতে গ্রাহকপ্রতি ডেটা রেট, গতিশীলতা এবং সময় বিলম্বেও নেটওয়ার্কে মাত্রাগুলো অনেক গুণে উন্নত হবে। বর্তমানে প্রচলিত মোবাইল গ্রাহক হিসেবে শুধু মানুষকে বিবেচনা করা হলেও ফাইভ-জি প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান সার্ভিস হলো ইন্টারনেট অব থিংকস, যেখানে যন্ত্রের মাধ্যমে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত ডিভাইসগুলোকেও গ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সরকারের ফাইভ-জি সেবা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২৮ গিগাহার্জ ব্যান্ডে ফাইভ-জি সার্ভিসের ওপর ভেন্ডরের মাধ্যমে একটি ডেমোনেস্ট্রেশন প্রদর্শন করা হয়েছে। বর্তমানে ২.৬ গিগাহার্জ, ৩.৫ গিগাহার্জ ইত্যাদি ব্যান্ডগুলো ফাইভ-জি সেবার জন্য জনপ্রিয় ব্যান্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফাইভ-জি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ২.৬ গিগাহার্জ, ৩.৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডের সঙ্গে অন্যান্য ব্যান্ডের বিষয়ে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড রেডিও কনফারেন্সে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মাধ্যমে ২৫০০-২৬৯০ মেগাহার্জ, ৩৩০০-৪২০০ মেগাহার্জ, ২৬-২৮ গিগাহার্জ, ৩২ গিগাহার্জ, ৩৮ গিগাহার্জ, ৪০ গিগাহার্জ এবং ৪৩ গিগাহার্জ ব্যান্ডগুলো ফাইভ-জি প্রযুক্তির জন্য তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ফাইভ-জি প্রযুক্তির লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দেশেই অপারেটরকে ৩৩০০-৪২০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডে প্রায় ১০০ মেগাহার্জ এবং মিলিমিটার ওয়েভের জন্য ২৬-২৮ গিগাহার্জ বা তদূর্ধ্ব ব্যান্ডে ৮০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু কিছু দেশ ২.৫ গিগাহার্জ (২৫০০-২৬৯০ মেগাহার্জ) ব্যান্ডে ৫-জি’র জন্য তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ফাইভ-জি প্রযুক্তির জন্য শুধু তরঙ্গের প্রাপ্যতাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত থাকা আবশ্যক। উন্নত দেশে ফাইভ-জি প্রযুক্তি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত থাকায় তারা এই প্রযুক্তি চালু করার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সমসাময়িক সময়ে ফাইভ-জি প্রযুক্তি প্রবর্তনে কমিশন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

স্বল্প খরচে মোবাইল কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক স্থাপনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো একই তরঙ্গ ব্যাপক ভিত্তিতে ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা। আইটিইউ বিশ্বব্যাপী এই ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ফাইভ-জি’র জন্য তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া মিলিমিটার ওয়েভের জন্য প্রস্তাবিত ব্যান্ডগুলো বরাদ্দ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে তরঙ্গ আছে।

 

সর্বশেষ..