সুশিক্ষা

ফারুক হোসেনের চারের মধ্যে চার

অনুষদে সর্বোচ্চ

জিপিএ-ধারী, গবেষণায়ও রেখেছেন কৃতিত্বের স্বাক্ষর। পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস পদক। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ফারুক হোসেনের এ কৃতিত্ব সম্পর্কে জানাচ্ছেন

সালমান শাকিল

গ্রামের বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে সবেমাত্র ভর্তি হয়েছেন রাজধানীর একটি কলেজে। উচ্চতর গণিতের অন্য বিষয়গুলোয়ও ক্লাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নম্বর পেতেন। ২০০৯ সালের কথা এগুলো। সে সময় ক্লাসভর্তি ছাত্রছাত্রীদের সামনে গণিতের ওপর তার দখল দেখে মুগ্ধ হতেন শিক্ষকরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি ও প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সুযোগ পান তিনি। তবে উচ্চশিক্ষায় তার আগ্রহের বিষয় ছিল রসায়ন-সম্পর্কিত বিষয়। তাই ভর্তি হন প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগে। ২০১২-১৩ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সেই শিক্ষার্থী ২০১৮ সালের মাস্টার্স পরীক্ষায় বিজ্ঞান অনুষদের মধ্যে সর্বোচ্চ জিপিএ-ধারী হয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে প্রথম সারিতে ছিলাম। তৃতীয় বর্ষের ফল আশানুরূপ না হওয়ায় স্নাতক পর্যায়ে প্রথম হতে পারিনি। তবে স্বপ্ন ছিল ভালো করার। সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তার মাস্টার্সে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন, পেয়েছেন জিপিএ চারের মধ্যে চার।

ফারুক ২০১৭ সালে ৩.৭৬ নিয়ে বিএসসি পাস করেন। এর আগে ২০০৯ সালে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ ও ২০১১ সালে এইচএসসিতে একই বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ নিয়ে উত্তীর্ণ হন।

বর্তমানে বিভাগের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিজ্ঞান গবেষণাগারে গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। আর্সেনিকের ওপর তিন বছর ধরে গবেষণা করছেন তিনি। এরই মধ্যে দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশ হয়েছে তার।

ভালো ফলের জন্য বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ২০১৮ সালে ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। মাস্টার্সের থিসিসের জন্য পেয়েছেন জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ।

সম্প্রতি দেশের প্রখ্যাত গবেষক ফিরদৌসি কাদরীর ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপিং সায়েন্স অ্যান্ড হেলথ অ্যাকটিভিটিসে গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করার ইচ্ছা রয়েছে তার। পছন্দের তালিকায় রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড, নরওয়ে ও জাপানের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে।

তিনি বলেন, বিভাগে সব শিক্ষকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা পরামর্শ দিতেন কীভাবে ভালো করা যায়। বিশেষ করে অধ্যাপক খালেদ হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম সাউদ স্যার আমাকে গবেষণা শিখিয়েছেন। ভালো শিক্ষার্থী ও ভালো গবেষক হওয়ার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন তারা। এখন একজন গবেষক ও শিক্ষক হিসেবে জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের কাজে আত্মনিয়োগ করার আশা করছি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..