পত্রিকা

ফার্নেস অয়েলের আড়াইগুণ দামে বিদ্যুৎ কিনবে পিডিবি

ইসমাইল আলী: নতুন ১০টি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সম্প্রতি অনুমোদন দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা এক হাজার ৭৭৩ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্র রয়েছে ছয়টি ও ডিজেলচালিত চারটি। এর মধ্যে ডিজেলচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট ঘণ্টা) বিদ্যুৎ কেনায় দাম ব্যয় পড়বে ফার্নেস অয়েলের কেন্দ্রের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি হওয়ার পরও কেন ডিজেলচালিত কেন্দ্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যা চেয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সম্প্রতি কমিটির ৩৪তম বৈঠকে এ ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যমতে, ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ৯৭৩ মেগাওয়াট। এর মধ্যে গাজীপুরের কড্ডায় ৩০০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র স্থাপন করবে সামিট পাওয়ার। এটি থেকে বিদ্যুৎ কেনায় ইউনিটপ্রতি ব্যয় হবে আট টাকা ৪৮ পয়সা। একই ব্যয়ে বিদ্যুৎ কেনা হবে কনফিডেন্স পাওয়ারের বগুড়া ও ওরিয়ন পাওয়ারের খুলনা কেন্দ্র থেকে। এ দুটোর উৎপাদন সক্ষমতা যথাক্রমে ১১৩ ও ১১০ মেগাওয়াট।

এছাড়া আশুগঞ্জে ১৫০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র স্থাপন করছে মিডল্যান্ড পাওয়ার। এটি থেকে বিদ্যুৎ কেনায় ইউনিটপ্রতি ব্যয় হবে আট টাকা ৪০ পয়সা। চট্টগ্রামে অ্যাক্রোন ইনফ্রাস্ট্রাকচার সার্ভিসের কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনায়ও একই ব্যয় হবে। এটির উৎপাদন সক্ষমতা ১০০ মেগাওয়াট। আর চাঁদপুরে দেশ এনার্জি ২০০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র নির্মাণ করবে। এটি থেকে বিদ্যুৎ কেনায় ব্যয় হবে আট টাকা ৫২ পয়সা।

এদিকে ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ৮০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে কেরানীগঞ্জে ৩০০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র করছে এপিআর এনার্জি। এটি থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কেনায় ব্যয় হবে ২০ টাকা ৩৩ পয়সা। একই দাম পড়বে বাংলা ট্র্যাকের কুমিল্লা ও যশোরের দুই কেন্দ্র থেকে। এগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা যথাক্রমে ২০০ ও ১০০ মেগাওয়াট। এছাড়া কেরানীগঞ্জে ২০০ মেগাওয়াটের আরেকটি ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে এগ্রিকো ইন্টারন্যাশনাল। এতে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুৎ কেনায় ব্যয় হবে ২০ টাকা।

বৈঠকের তথ্যমতে, ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ কেনায় ব্যয় হবে ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৬৫ সেন্ট বা সাড়ে আট টাকা। আর ডিজেলচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ কেনায় ব্যয় হবে সর্বোচ্চ ২৫ দশমিক ৪২ সেন্ট বা ২০ টাকা ৩৩ পয়সা। অর্থাৎ ডিজেলচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনায় ব্যয় হবে দুই দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। আড়াই গুণ দামে বিদ্যুৎ কিনতে হবে জেনেও কেন ডিজেলচালিত কেন্দ্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তার কারণ ব্যাখ্যা চেয়েছে সংসদীয় স্থানীয় কমিটি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, প্রাইভেট সেক্টর পাওয়ার জেনারেশন পলিসি অব বাংলাদেশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) আইন, ২০১৫-এর আওতায় দেশের ১০টি স্থানে মোট এক হাজার ৭৭৩ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য স্পন্সরদের অনুকূলে অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। এর আগে পিডিবির সঙ্গে অন্যান্য বেসরকারি কোম্পানির স্বাক্ষরিত চুক্তির অনুরূপ শর্তে এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণপূর্বক চুক্তি সইয়ের বিষয়ে পিডিবিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিল্ড ওন অপারেট (বিওও) পদ্ধতিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে স্পন্সর কোম্পানি কর্তৃক সাধারণত পাঁচটি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলো হলোÑজমির প্রাপ্যতা, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে গ্রিড উপকেন্দ্র পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের সুব্যবস্থা ও সাব-স্টেশনের নিকটবর্তী জায়গা, বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি পরিবহনের ব্যবস্থা, তরল জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা এবং ইঞ্জিন জেনারেটরের সংখ্যা ও সক্ষমতা। এগুলো বিবেচনায় স্থানভেদে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ব্যয় এবং পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের তারতম্য হয়। এছাড়া স্থানভেদে প্রকল্পের জমির মূল্য ভিন্ন হয়। সে অনুপাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ ভিন্ন হওয়া যৌক্তিক।

জানতে চাইলে পিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ শেয়ার বিজকে বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিলম্ব হওয়ায় বেসরকারি খাতে তরল জ্বালানিভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে ১০টি কেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয় নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট সব দিক যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। আর দরকষাকষির ভিত্তিতে চূড়ান্ত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় নিয়ে সংশয়ের কোনো কারণ নেই।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..