সম্পাদকীয়

ফার্মেসির লাইসেন্স নবায়ন নিশ্চিত করতে হবে

স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। এটির নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু অর্থনৈতিক অবস্থান ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার। মানব উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে স্বাস্থ্য সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ঘোষণায় স্বাক্ষরদাতা হিসেবে বাংলাদেশ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। সবার জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে একটি সুস্থ-সবল জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার উদ্দেশে ক্রয়সাধ্য মূল্যে উন্নতমানের অত্যাবশ্যকীয়  ওষুধগুলোর পর্যাপ্ত সরবরাহ ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পর বিদেশ থেকে বেশিরভাগ ওষুধ আমদানির মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা হতো। আর বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে ১৫১টি দেশে যাচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওষুধ রপ্তানির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। অন্য দেশগুলোর সঙ্গে মূল্য প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছে দেশের ওষুধ। যে কারণে রপ্তানির পরিমাণও ব্যাপক। এছাড়া ওষুধের গুণগতমান বজায় রাখায় বিদেশি বাজারে বাংলাদেশের ওষুধের চাহিদা বাড়ছে। দেশের কয়েকটি ওষুধ কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওষুধ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে। সরকার এ বছর ওষুধের কাঁচামাল রপ্তানির ওপর নগদ  প্রণোদনা দিচ্ছে ২০ শতাংশ। তবে রপ্তানির ওপর নগদ প্রণোদনাসহ সরকারি সহযোগিতা পেলে রপ্তানি আয় আরও বাড়বে।  কভিডকালে রপ্তানি-আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও  ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে। অন্যদিকে নজরদারির অভাবে নি¤œমানের ওষুধ তৈরি করে বাজারজাত করছে কিছু প্রতিষ্ঠান। আর সেগুলো বিক্রয় করছে ফার্মেসিগুলো।

তাপমাত্রার হেরফের হলে অনেক ওষুধের গুণগত মান নষ্ট হয়। তাই ফার্মেসিগুলোর পরিবেশ আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করার গুরুত্ব দিচ্ছে ওষুধ  প্রশাসন। তারই অংশ হিসেবে মডেল ফার্মেসি প্রতিষ্ঠাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এসব ইতিবাচক খবর আমাদের মনে আশার সঞ্চার করে। এ অবস্থায় গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘ঢাকায় লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ওষুধের ব্যবসা!’ শীর্ষক প্রতিবেদন সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী। ঢাকা জেলায় রয়েছে সাড়ে ছয় হাজারের মতো ফার্মেসি। এর সবগুলোর লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে। এমন তথ্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সরকার যেখানে সব ওষুধের দোকানকে ক্রমান্বয়ে মডেল ফার্মেসিতে রূপান্তরের কথা বলছে, সেখানে বিপুলসংখ্যক ফার্মেসি লাইসেন্স নেই। প্রায়ই  ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে নকল, ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন ওষুধ বিক্রির অভিযোগে দণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এখন জানা গেল, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা সত্ত্বেও ফার্মেসিগুলো লাইসেন্সও নবায়ন করেনি।

খবরে বলা হয়, একটি ফার্মেসির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয় ২০০৪ সালে, আরেকটির ২০০৫ সালে। ২ জুলাই। এরপর থেকে আর নবায়ন করা হয়নি। এমন হাজার হাজার উদাহরণ রয়েছে। এটি কেবল ফার্মেসি মালিকদের দায়িত্বহীনতা নয়, প্রশাসনের উদাসীনতার উদাহরণ বৈকি।   

ফার্মেসির লাইসেন্স হালনাগাদ করা ছাড়া ওষুধ বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির আশঙ্কা থাকায় জনস্বাস্থ্য হুমকিতে পড়তে পারে। আমরা আশা করি, মেয়াদোত্তীর্ণ ফার্মেসিগুলোকে শিগগিরই লাইসেন্স নবায়নের জন্য সময় বেঁধে দেয়া হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..