প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ফার কেমিক্যাল: নতুন টেক্সটাইল ইউনিট স্থাপন অনিশ্চিত

নাজমুল ইসলাম ফারুক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফার কেমিক্যাল লিমিটেডের নতুন টেক্সটাইল ইউনিট স্থাপন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন উত্তোলনের বিষয়টি ঝুলে পড়ায় এমন অনিশ্চয়তায় পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটিই জানা গেছে।

তথ্যমতে, গত বছর নতুন টেক্সটাইল ইউনিট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় ফার কেমিক্যাল লিমিটেড। সে অনুযায়ী পর্ষদ গত বছর রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পর্ষদের এ সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীরা সম্মতি দেয়নি। তাই রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন উত্তোলন করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। ফলে নতুন ইউনিট স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে নতুন ইউনিট স্থাপনের জন্য কোম্পানির পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় কয়েক দফা জমি কিনেছে বলে ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে জানানো হয়েছে। রাইট ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের বিষয়ে সম্মতি না দিয়ে বিনিয়োগকারীরা বেঁকে বসায় এখন নতুন ইউনিট স্থাপন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

তথ্যমতে, কোম্পানিটি তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে বিনিয়োগকারীদের বোনাস লভ্যাংশ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রাইট শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়াসহ গত সমাপ্ত বছরে প্রতিষ্ঠানটি ৫ শতাংশ নগদ ও ২০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়। নগদ লভ্যাংশ দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত মুনাফার হার (ইল্ড) দাঁড়ায় ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অথচ আগের দুই বছর বোনাস দেওয়ায় কোম্পানির শেয়ার থেকে বিনিয়োগকারীরা ডিভিডেন্ড (লভ্যাংশ) গেইন করতে পারেনি।

রাইট শেয়ার ইস্যুর বিষয়ে গত ১৪ নভেম্বর কোম্পানির ইজিএম অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কোম্পানিটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নতুন ইউনিট স্থাপনের জন্য রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব উপস্থাপন করে। প্রতিষ্ঠানটি ১আর: ১ (১টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ১টি রাইট) ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। প্রতিটি শেয়ারে ৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা ওই সভায় রাইট শেয়ার ইস্যুর বিষয়ে সম্মতি দেননি।

এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোম্পানির সচিব ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাইট শেয়ার ইস্যুতে বিনিয়োগকারীদের সম্মতি না পাওয়ায় কীভাবে নতুন ইউনিট স্থাপন করা হবে জানতে চাইলে ফার কেমিক্যালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিম জং সুক বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেবে পর্ষদ।’

কোম্পানির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাইট শেয়ারের মাধ্যমে মূলধন উত্তোলন করে টেক্সটাইল মিলস করার পরিকল্পনা ছিল পর্ষদের। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের সম্মতি না পাওয়ায় এবং মূলধন উত্তোলন করতে না পারায় নতুন ইউনিট স্থাপন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফার কেমিক্যাল আইপিওতে আসার সময় অসত্য তথ্য দেওয়ায় ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ৫২৬তম কমিশন সভায় প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে অসত্য তথ্য যাচাই-বাছাই না করে ডিউ ডিলিজেন্স সনদ দেওয়ার মাধ্যমে ইস্যু ব্যবস্থাপক আইন লঙ্ঘন করে। এ কারণে কমিশন ফার কেমিক্যাল ও ইস্যু ম্যানেজার প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করে। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট রয়েছে। ফলে রাইট শেয়ার ইস্যুতে আপত্তি জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে মূলধন উত্তোলনে সমস্যায় পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। এ কারণে নতুন ইউনিটের কার্যক্রম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন তারা।

লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১৮ টাকা ৪০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩৩ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত ওঠানামা করে। গত দুই বছরে ১৮ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৫৭ টাকা ৮০ পয়সায় ওঠানামা করেছে। গত বৃহস্পতিবার কোম্পানির শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ২৬ টাকা ৬০ পয়সা।

ফার কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ২০১৪ সালে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে পরিচালকদের কাছে ৩২ দশমিক ৯৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৩ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।