দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

ফাহামী গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ৩৭৯ কোটি টাকা

সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: দেশের পোশাক খাতের শীর্ষ ঋণখেলাপি ফাহামী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। পোশাক ব্যবসায়ী মোতাহারুল ইসলামী চৌধুরীর মালিকানাধীন গ্রুপের একাধিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান পোশাক উৎপাদনে জড়িত। ব্যবসার প্রয়োজনে সাউথ ইস্ট ব্যাংক লিমিটেড থেকে ঋণ সুবিধা নিলেও ব্যবসায়িক ব্যর্থতা ও পরিচালনাগত অদক্ষতায় তারা ব্যাংকটির প্রিন্সিপাল শাখায় ৩৭৯ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে পড়ে। এর আগেও আরও কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপির তালিকায় নাম আসে। পাশাপাশি সংসদে প্রকাশিত শীর্ষ ৩০০ খেলাপির তালিকায় আছে গ্রুপটির দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম।

সাউথ ইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের প্রিন্সিপাল শাখা সূত্রে জানা যায়, পোশাক খাতের ব্যবসায়ী মোতাহারুল ইসলামী চৌধুরীর মালিকানাধীন ফাহামী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। তিনি এখন বিভিন্ন ব্যাংকে খেলাপি গ্রাহক। এর মধ্যে সাউথ ইস্ট ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা থেকে ফাহামী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ফাহামী অ্যাপারেলস লিমিটেড, ফাহামী নিটওয়্যার লিমিটেড ও ফাহামী ড্রেসেস লিমিটেডের নামে ব্যবসা পরিচালনার জন্য ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রথম দিকে নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করলেও গত এক বছরের বেশি সময়ে প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা পাওনা পরিশোধে একাধিকবার ব্যর্থ হন। তাদের ব্যবসায়িক ব্যর্থতা ও পরিচালনাগত অদক্ষতায় গত ৩ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির প্রিন্সিপাল শাখায় ৩৭৯ কোটি সাত লাখ ৮৪ হাজার টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়। এর মধ্যে ফাহামী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ২১৬ কোটি ১৫ লাখ, ফাহামী অ্যাপারেলস লিমিটেডের ৬৩ কোটি ৩৭ লাখ, ফাহামী নিটওয়্যার লিমিটেডের ৩০ কোটি ৮৩ লাখ ও ফাহামী ড্রেসেস লিমিটেডের ৬৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ আছে। এসব ঋণের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধকিতে আছে সাভারের দুই তফসিলে মোট ৬৩ শতক জমিসহ দুটি ১০ তলা (দুই লাখ ৪০ হাজার বর্গফুট)  কারখানা বিল্ডিংসহ সব ধরনের সম্পদ ও স্বত্ব। খেলাপি ঋণ উশুলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আগামী ২৭ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট শাখায় নিলামের মাধ্যমে বিক্রির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে জেসিকা অ্যাপারেলস স্থাপনের মাধ্যমে মোতাহারুল ইসলামী চৌধুরী পোশাক খাতের ব্যবসায় আসেন। পরে এ ব্যবসায়ী ফাহামী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ফাহামী অ্যাপারেলস লিমিটেড, ফাহামী নিটওয়্যার লিমিটেড, ফাহামী ড্রেসেস লিমিটেড, ফাহামী টাউজারস লিমিটেড, ফাহামী শার্টস লিমিটেড, ফাহামি ওয়াশিং লিমিটেড এবং জেসিকা অ্যাপারেলস লিমিটেড প্রভৃতির সমন্বয়ে ফাহামী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি ব্যবসায়িক গ্রুপ গড়ে তোলেন। এ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো সাভারে অবস্থিত। এর মধ্যে ২০০০ সালে ফাহামী অ্যাপারেলস, ২০০৫ সালের ফাহামী ইন্ডাস্ট্রিজ ও ফাহামী নিটওয়্যার, ২০০৬ সালের ফাহামী ড্রেসেস ও ফাহামী শার্টস এবং ২০১০ সালে ফাহামী টাউজারস স্থাপন করেন।

অন্যদিকে চলতি বছরের প্রথম সংসদ অধিবেশনে প্রকাশিত শীর্ষ ৩০০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ফাহামী নিটওয়্যার লিমিটেড ১৯৪ নম্বরে আছে। এ প্রতিষ্ঠানের মোট ব্যাংক অনুমোদনকৃত ঋণ আছে ১০৩ কোটি টাকা এবং খেলাপি ৯২ কোটি টাকা। অন্যদিকে একই তালিকায় একই গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান ফাহামী ওয়াশিং লিমিটেডের অনুমোদনকৃত ঋণ আছে ৯০ কোটি টাকা, যার পুরোটাই খেলাপি হয়ে পড়েছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাউথ ইস্ট ব্যাংকের এক কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, ফাহামী গ্রুপের সম্পদের চেয়ে ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। তাদের বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করলে বিপুল পরিমাণে খেলাপি ঋণ শোধ করতে পারবে না। এ গ্রুপের কিছু প্রতিষ্ঠান এর মধ্যে বন্ধ হয়ে আছে। আর যেগুলো চালু আছে তা কতদিন চালু থাকবে তারও নিশ্চয়তা নেই। তারা নিজেরা শেষ হবে, একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের আমানত শেষ করবে। তাদের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির দাবি করছি। এক্ষেত্রে ব্যাংককে বাঁচাতে হলে সরকারের উচিত উচ্চ আদালতে রিট কিংবা স্টে অর্ডারের সুযোগ বন্ধ করা। এতে সাধারণ জনগণের আমানত সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।  

এ বিষয়ে ফাহামী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোতাহারুল ইসলামী চৌধুরী শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমি কোনো ধরনের বিষয়ে কথা বলতে পারব না।’ এ কথা বলে তিনি সংযোগ কেটে দেন। পরে ফোন করা হলে সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়।

অপরদিকে ফাহামী গ্রুপের খেলাপি বিষয়ে জানতে গত বৃহস্পতিবার বিকালে সাউথ ইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল হোসাইন শেয়ার বিজকে বলেন, নিয়ম অনুসারে ফাহামী গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠান খেলাপি হয়ে পড়ে। এ মুহূর্তে বিস্তারিত বলা যাবে না। আমি এখন সাউথ আফ্রিকায় যেতে বিমানের ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছি। আগামী সপ্তাহে এলে তখন কথা বলব।  

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..