শেষ পাতা

ফিটনেস না থাকলে গাড়িতে জ্বালানি নয়:হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক:ফিটনেসবিহীন গাড়িতে তেল-গ্যাস-পেট্রোলসহ সব ধরনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও পুলিশের প্রতিবেদন নিয়ে শুনানি শেষে গতকাল বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে বিআরটিএ’র পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মঈন ফিরোজী, রাফিউল ইসলাম এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না।

আইনজীবী মঈন ফিরোজী বলেন, রাস্তায় ফিটনেসবিহীন যত গাড়ি চলছে, সেগুলোতে কোনো ফিলিং স্টেশন থেকে পেট্রোল, গ্যাস, তেলসহ জ্বালানি সরবরাহ না করতে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

লাইসেন্স নিয়ে ফিটনেস নবায়ন করেনিÑএমন চার লাখ ৭৯ হাজার ৩২০ গাড়িকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফিটনেস নবায়ন করতে গত ২৩ জুলাই নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে বিআরটিএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, চার লাখ ৭৯ হাজার ৩২০ গাড়ির মধ্যে গত দুই (১ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) মাসে ফিটনেস নবায়ন করেছে ৮৯ হাজার ২৬৯ গাড়ি।

অন্যদিকে ফিটনেস নবায়নে বেঁধে দেওয়া সময়ের পর ঢাকা মহানগরে ফিটনেসবিহীন ৬৪৮ গাড়ি জব্দসহ মোট চার হাজার ১০৩টি গাড়ির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশপ্রধানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা, গাজীপুর, বগুড়া, মাদারীপুর মহাসড়কে ৪১২টি ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৪০৫টি জব্দ করা হয়েছে।

এর আগে আদালতে জমা দেওয়া বিআরটিএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকাসহ সারা দেশে লাইসেন্স নিয়ে ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়ির সংখ্যা চার লাখ ৭৯ হাজার ৩২০টি। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে দুই লাখ ৬১ হাজার ১১৩, চট্টগ্রাম বিভাগে এক লাখ ১৯ হাজার ৫৮৮, রাজশাহী বিভাগে ২৬ হাজার ২৪০, রংপুর বিভাগে ছয় হাজার ৫৬৮, খুলনা বিভাগে ১৫ হাজার ৬৬৮, সিলেট বিভাগে ৪৪ হাজার ৮০৫ ও বরিশাল বিভাগে পাঁচ হাজার ৩৩৮টি গাড়ি মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেসবিহীন গাড়ি রয়েছে।

গত ২৩ মার্চ ‘নো ফিটনেস ডকস, ইয়েট রানিং’ শিরোনামে একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আসার পর ২৭ মার্চ আদালত স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। ঢাকাসহ সারা দেশে ফিটনেস-নিবন্ধনবিহীন যানবাহন ও লাইসেন্সবিহীন চালকের প্রতিবেদন চেয়ে বিআরটিএ’র সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক মাহবুব-ই-রাব্বানীকে ২৪ জুন আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

একই সঙ্গে ফিটনেস, নিবন্ধনবিহীন যান চলাচল এবং লাইসেন্স ছাড়া যান চলাচল বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রীয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জীবন ও ব্যক্তির বাঁচার অধিকার রক্ষায় মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩-এর বিধান বাস্তবায়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ প্রধান, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান, ঢাকা ট্রাফিক পুলিশের (উত্তর ও দক্ষিণ) ডিসি, বিআরটিএ সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ..