স্পোর্টস

ফুটবল উন্নয়নে বাংলাদেশের প্রশংসায় ফিফা সভাপতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক: সংক্ষিপ্ত সফরে গতকাল ঢাকায় এসে বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তার চোখে এদেশের নারী ফুটবল দারুণ উন্নতি করেছে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান আবার জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ফুটবলের প্রসারে ফিফার সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

ফিফার আমন্ত্রণে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে গতকাল বাংলাদেশে পৌঁছান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। প্রথমবার বাংলাদেশে আসায় বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা দেওয়া হয় তাকে। এরপর নির্ধারিত সফর সূচি অনুসারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন ফিফা প্রধান। সেখানে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন। সে সময় বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীকে ফিফার পক্ষ থেকে তিনি উপহার দেন জার্সি। তখনই আবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ফিফা প্রেসিডেন্টতে জার্সি উপহার দেন।

ফুটবলের উন্নয়নে বাংলাদেশের নেওয়া পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করে ফিফা সভাপতি গতকাল বলেন, ‘বাংলাদেশের ফুটবল দারুণ উন্নতি করছে। বিশেষ করে নারী ফুটবল। এছাড়া সম্প্রতি ছেলেরা ভারতের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে, যা ইতিবাচক। সত্যি বলতে আমি এমন একটি দেশকে খুঁজে পেয়েছি যেখানে শুধু ফুটবল খেলাই হয় না, এখানকার লোকদের স্বপ্নই ফুটবল। আর এটাই ফিফার মূল উদ্দেশ্য।’

বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যতে রয়েছে অমিত সম্ভাবনা। এ জন্য এ খেলাটিতে আরও ওপনে নিতে বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে ফিফা সভাপতি, ‘ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ফুটবলের বেশ সম্ভাবনা রয়েছে। তবে খেলাটিকে আরও ওপরে নিয়ে যেতে দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে।’

একটা সময়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ছিল ফুটবল। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেটা চলে গেছে ক্রিকেটে। ব্যাপারটি অবশ্য মেনে নিতে পারছেন না ফিফা সভাপতি, ‘আমি মানি না, ক্রিকেট বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ক্রিকেট তো অনেক কঠিন খেলা। আপনি কীভাবে বলতে পারবেন যে ক্রিকেট সবাই বোঝেন? ফুটবল খুবই সহজে বোঝা যায়, খেলা যায়। আপনার কাছে বল আছে, খেলছেন, গোল করছেন, উল্লাস করছেন। ফুটবল হƒদয় দিয়ে খেলা যায়। সারা বিশ্বে হাতেগোনা কিছু দেশ ক্রিকেট খেলে। সংখ্যাটা কত হবে? ১০বা১১? অন্যদিকে ফুটবল খেলে ২১১টা দেশ। তো আপনি যখন অল্প কয়েকজনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবেন তখন আপনার সাফল্যের সম্ভাবনা এমনিতেই বেড়ে যাবে, সহজেই শীর্ষে যেতে পারবেন।’

কঠিন লড়াই করেই ফুটবলে জয় ছিনিয়ে নিতে হয়। যে কারণে এ খেলাটায় থাকে বেশ চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের মানুষ আগে থেকেই যোদ্ধা, ইতিবাচক অর্থে। এখানে অনেক কারণেই ফুটবল খেলা হয়, এমনকি স্বাধীনতার জন্যও। এমনটাই মনে করেন ফিফা সভাপতি, ‘ফুটবলে এমন হবেই যে আপনি কখনও ওপরে থাকবেন আবার নিচে পড়ে যাবেন। আপনারা জানেন ২১১টি দেশের মধ্যে ফুটবল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কিন্তু একটি দেশ, যেটা বর্তমানে ফ্রান্স। কিন্তু এর মানে এই না যে বাকি ২১০টি দল খারাপ। এটার মানে এ যে বাকি ২১০ দেশ চ্যাম্পিয়ন হতে চায়। সেটা হোক বয়সভিত্তিক বা নারী ফুটবলে। এ কারণেই বাংলাদেশে আমি যে ফুটবলের প্রতি প্যাশন দেখেছি, বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পর সবার যে উম্মাদনাএটা চলমান থাকলে বাংলাদেশের ফুটবলও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক উঁচুতে যাবে। তখন আর ক্রিকেটের কোনো সুযোগ থাকবে না।’

গতকাল মাত্র ১৬ ঘণ্টা বাংলাদেশে অবস্থান করে সন্ধ্যায় লাওসের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন ইনফান্তিনো। সেপ ব্লাটার ও জোয়াও হাভেলাঞ্চের পর ফিফার তৃতীয় সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ সফরে পা রেখেছিলেন তিনি।

সামনের ফিফার নির্বাচক। সেখানে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ইনফান্তিনো। তাই অনেকেই ধারণা করছেন সুইস-ইতালিয়ান নাগরিক ভোটের প্রচারণা চালিয়ে ঘুরে গেলেন লাল-সবুজদের দেশ থেকে।

ফিফা সভাপতির আগামণ উপলক্ষে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সেজেছিল সাজসাজ রবে। গতকাল মতিঝিলের বাফুফে অফিস হয়ে উঠেছিল উৎসবমুখর। দুপুরে সেখান পৌঁছান বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার বড় কর্তা। অনেকে তো তাকে পেয়ে সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে সেটা বেশিক্ষণ হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সব আনুষ্ঠানিকতা সেরে তিনি যোগ দেন বাফুফের একটি অনুষ্ঠানে। সেখান এ দেশের ফুটবল উন্নয়নে আরও সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। এখন দেখার বিষয় বাস্তবে তার কথার সঙ্গে কাজে কতটা মিল পায় দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।   

সর্বশেষ..