সারা বাংলা

ফুলবাড়ীতে কিস্তি নিয়ে চিন্তিত নিম্ন আয়ের মানুষ

মো. রজব আলী, দিনাজপুর : দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে এনজিওর ঋণের কিস্তি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।ফুলবাড়ী পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, করোনাভাইরাস আতঙ্কে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না অধিকাংশ মানুষ। শহরের রাস্তা-ঘাট প্রায় ফাঁকা। ফলে বিপাকে পড়েছে শ্রমিক, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষেরা। পৌর শহরের রিকশাচালক দাদপুর গ্রামের পঞ্চাশের বেশি বয়সী খরকুদ্দিন মিয়া বলেন, তার পরিবারে আটজন সদস্য, প্রতি সপ্তাহে এনজিওর কিস্তি দিতে হয় ১৪০০ টাকা। তিনি বলেন বর্তমানে শহরের মানুষ কমে গেছে এখন তার আয় নেই, কী করে সংসার চলবে আর এনজিওর কিস্তি কীভাবে পরিশোধ করবে এ নিয়ে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

একই কথা বলেন একই এলাকার রিকশাচালক শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে রিকশা কিনেছেন, বর্তমানে তার আয় না থাকায় এনজিওর কিস্তি পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

জয়নগর গ্রামের দিনমজুর শাহিনুর রহমান বলেন, করোনা-আতঙ্কে এখন কেউ তাকে বাড়িতে কাজে নিচ্ছে না। ফলে তার মজুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তার সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে পড়েছে এনজিওর কিস্তি। প্রতি সপ্তাহে তাকে ১১০০ টাকা কিস্তি দিতে হয়। কীভাবে কিস্তি পরিশোধ করবে এটাই তার এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা। ক্ষুদ্র চা-স্টল ও পান-সিগারেটের দোকান ও খাবারের দোকানিদেরও একই অবস্থা।

শহরে জনসমাগম কমে যাওয়ায়, এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও খাবারে দোকানে হোটেলের বেচাকেনা কমে গেছে। শ্রমিক ও দিন মজুরদের মতো তারাও বিপাকে পড়েছে। পৌর শহরের বটতলি মোড়ের চা-বিক্রেতা দুলু মিয়া বলেন, সারাদিন যেখানে দুই থেকে তিন হাজার টাকা বেচাকেনা হতো, সেখানে ৫০০ টাকাও বেচাকেনা হচ্ছে না। নিমতলা মোড়ের হোটেল ব্যবসায়ী সুলতান হোসেন বলেন, বর্তমানে বেচাকেনা একেবারে কমে গেছে। হোটেল ভাড়া দিয়ে কর্মচারীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ওপর রয়েছে ঋণের কিস্তি।

ফুলবাড়ী রক্ষা আন্দোলনের নেতা সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে ব্যবসায়ীদের ব্যাংকের কিস্তি স্থগিত করা হলেও, গরিবের এনজিওর কিস্তি স্থগিত করা হয়নি। নদি বাঁচাও আন্দোলনের নেতা ডাক্তার ওয়াজেদুর রহমান বাবলু ব্যাংকের ন্যায় এনজিওর ঋণে কিস্তি বন্ধ করার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী এনজিও ফোরামের সভাপতি এমএ কায়ুমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন এনজিওগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে। এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তাই নিয়মিত কিস্তি আদায় করা হচ্ছে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুস সালাম চৌধুরী বলেছেন এনজিও’র কিস্তি বন্ধ রাখার জন্য ফুলবাড়ীতে কর্মরত এনজিওগুলোকে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নিয়মিত কিস্তি নিচ্ছে এনজিওগুলো। তাই কারোনা প্রাদুর্ভাব না কাটা প্রর্যন্ত এনজিও’র কিস্তি বন্ধ রাখার জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..