সারা বাংলা

ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বেহাল

মো. রজব আলী, দিনাজপুর : দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনও রয়েছে ৩১ শয্যার জনবল। ৩১ শয্যার জনবলের মধ্যে পাঁচ সার্জনের পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে।

এদিকে গত এক বছর থেকে অকেজো রয়েছে এক্স-রে মেশিন। প্যাথলোজি বিভাগ চলছে একজন মাত্র টেকনিশিয়ান দ্বারা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে রয়েছে একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স। চিকিৎসকেরা বলছেন, একাধিক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠাতে হলে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে রোগীর দীর্ঘ লাইন। তারা সকাল থেকে অপেক্ষা করছেন। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা শুধু ফুলবাড়ী উপজেলার নয়, পার্শ্ববর্তী উপজেলার পার্বতীপুর, বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলা থেকে এসেছেন। তারা জানান, ফুলবাড়ী উপজেলা হাসপাতালটি নিকটবর্তী হওয়ায় এবং যাতায়াতে সুবিধা থাকায় তারা এখানে চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন।

চিকিৎসকেরা বলেন, ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ভৌগোলিক কারণে নিকটবর্তী এবং যাতায়াতের সুবিধার্থে চিকিৎসা নিতে আসেন ফুলবাড়ী উপজেলাসংলগ্ন পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর, হরিরামপুর ও মোস্তফাপুর ইউনিয়ন, বিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়ন এবং নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়পুর ও কুশদহ ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাছাড়া বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মধ্যপাড়া পাথরখনির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে সব সময় রোগীর ভিড় লেগে থাকে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার এনায়েতুল্লা নাজিম বলেন, গত জানুয়ারি মাসে পাঁচ হাজার ৭৪৬ রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে বহির্বিভাগে চার হাজার ৩৬৮ জনকে ও জরুরি বিভাগে এক হাজার ৩৭৮ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আসগর কামাল সিদ্দিকী বলেন, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখন পর্যন্ত ৫০ শয্যার জনবল নিয়োগ করা হয়নি। ৩১ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হিসেবে পাঁচ সার্জনসহ মোট ১৭ চিকিৎসকের পদ থাকলেও পাঁচ সার্জনের পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। এছাড়া মেডিকেল অফিসার (হোমিওপ্যাথিক) ডাক্তার নাজমা বেগম দীর্ঘদিন থেকে ডেপুটেশনে ঢাকা ফুলবাড়ীয়া হাসপাতালে থাকায় রোগীদের হোমিও চিকিৎসা প্রদান করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো একই বরাদ্দ পায়, কিন্তু এক উপজেলার বরাদ্দ দিয়ে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চারটি উপজেলার রোগীকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..