প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ফেনীতে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রোহিঙ্গাদের দেখতে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে ফেনীতে হামলার মুখে পড়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। গতকাল বিকালে চৌদ্দগ্রাম পেরিয়ে ফেনী জেলার সীমানার শুরুতে মোহাম্মদ আলী বাজারে এ হামলা হয়। খবর: বিডিনিউজ।

খালেদা জিয়ার গাড়ি পেরিয়ে যাওয়ার পর একদল যুবক ওই হামলা চালায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গণমাধ্যমসহ বহরের বেশ কয়েকটি গাড়ি। ফেনী জেলা শহরের ছয়-সাত কিলোমিটার আগে মোহাম্মদ আলী বাজার। একাত্তর, ডিবিসি, চ্যানেল আই ও বৈশাখী টেলিভিশনের গাড়ি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী মারধরের শিকার হন। একাত্তর টিভির এক কর্মী ভিডিও ধারণ করতে গেলে তিনিও মারধরের শিকার হন। এছাড়া বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এর মধ্য দিয়ে বিকাল ৫টার দিকে খালেদা জিয়া ফেনী জেলা শহরে পৌঁছান।

বিকাল পৌনে ৫টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িসহ বহরের ৩০টির মতো গাড়ি মোহাম্মদ আলী বাজার অতিক্রমের পরপরই ১৫-২০ যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে উঠে আসে। কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা গেছে। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে ফেনীতে যাত্রাবিরতির সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে নেতাকর্মীদের সাক্ষাৎ ঠেকাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সড়কে অবরোধ করে বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ।

চট্টগ্রামমুখী খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে দেড় শতাধিক গাড়ি রয়েছে। ফেনী সার্কিট হাউসে ঘণ্টাখানেক যাত্রাবিরতি করে তিনি চট্টগ্রামে রওনা হন বলে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস জানিয়েছেন।

ফেনী সার্কিট হাউসে খালেদাকে স্বাগত জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ফেনী জেলা সভাপতি আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন মিস্টার, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক রেহানা আখতার রানু প্রমুখ।

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে রাত কাটিয়ে আজ রোববার বেলা ১১টায় সড়কপথে কক্সবাজারে উদ্দেশে রওনা হবেন বিএনপি নেত্রী। সেখানে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে রাতে থাকবেন। পরে সোমবার উখিয়ার বালুখালী, বোয়ালমারা ও জামতলী রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

শনিবার সকাল পৌনে ১১টায় ঢাকার গুলশানের বাসা থেকে রওনা হওয়ার সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন।

এ কর্মসূচি সফলে সরকারের সহযোগিতা চেয়ে ফখরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘আমরা আশা করি, পথিমধ্যে সরকারের সব ধরনের সহযোগিতা পাব। পুলিশ মহাপরিদর্শক আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, তারা দেশনেত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন এবং তার সফর যাতে সুন্দরভাবে হয়, তাতে সহযোগিতা করবেন।’

বিএনপি মহাসচিব জানান, খালেদার এ সফরে ১০ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ২২ ট্রাক ত্রাণ নিয়ে কক্সবাজারের যাওয়ার পথে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলকে আটকে দেওয়া হয়।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়, ‘নিয়ম মেনে’ জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটির মাধ্যমে ত্রাণ দেওয়ার উদ্যোগ না নেওয়ায় তাদের আটকানো হয়েছে। এর আগে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামে হামলার শিকার হয়েছিল বিএনপি মহাসচিব ফখরুলের গাড়িবহর।