বিশ্ব সংবাদ

ফেব্রুয়ারিতে চীনের কারখানায় উৎপাদন কমেছে

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চীনে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জানুয়ারির তুলনায় কারখানায় উৎপাদন প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কমেছে। গতকাল রোববার দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (এনবিএস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যানুফাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্সে (পিএমআই) উৎপাদন জানুয়ারির তুলনায় ৫১ দশমিক তিন শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ৫০ দশমিক ছয় শতাংশে নেমেছে। যদিও বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল উৎপাদন প্রসারণ কমে ৫১ দশমিক এক শতাংশ হবে। খবর: রয়টার্স।

করোনা মহামারির (কভিড-১৯) কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ তথা সরকার শ্রমকিদের নিজস্ব এলাকায় কাজ করতে উৎসাহিত করেছে। এছাড়া নতুন চান্দ্রবর্ষের ছুটিতে শ্রমিকরা প্রায় ২৮ দিন সাধারণত উৎপানমুখী কাজের বাইরে ছিলেন। এসব কারণে মূলত গত ফেব্রুয়ারি মাসে কারখানার উৎপাদন প্রসারণ অনেকটা কমেছে, যদিও চীন সরকার মহামারিকালে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

দেশটির দাপ্তরিক পিএমআই ইনডেক্সে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক উৎপাদন চাহিদা বেশি থাকার পরও রাষ্ট্রায়ত্ত বড় বড় ফার্মে জানুয়ারির তুলনায় রপ্তানি আদেশ কম হওয়ায় মূলত উৎপাদন প্রসারণ হ্রাস পেয়েছে। জানুয়ারিতে যেখানে রপ্তানি আদেশ ছিল ৫০ দশমিক ২ শতাংশ, সেখানে ফেব্রুয়ারিতে কমে ৪৮ দশমিক আট শতাংশে নেমেছে। অন্যদিকে ছোট ছোট ফার্মে জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি আদেশ ৪৮ দশমিক তিন থেকে বেড়ে ৪৯ দশমিক চার শতাংশে উত্তীর্ণ হয়েছে।

দেশটির এনবিএসের শীর্ষ কর্মকর্তা ঝাও কিনহে বলেন, কিছু কারখানায় শ্রমমজুরি বেশি এবং শ্রমিক সংকটের কারণে কারখানাগুলো উৎপাদনে ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। 

চীনের কারখানাগুলোয় প্রথমবারের মতো এ বছরের জানুয়ারিতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, কারণ তখন কাঁচা পণ্যের আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গিয়েছিল, যার প্রভাব পড়েছে ফেব্রুয়ারির উৎপাদন প্রক্রিয়ায়।

গতবছর চীন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুই দশমিক তিন শতাংশ ধরে রাখতে পেরেছিল। এ বছর সরকার চাইছে প্রবৃদ্ধি আরও ভালো অবস্থায় রাখতে। এজন্য চীন সরকার বৈদেশিক বাণিজ্যনীতি সহজ এবং সহজে সাপ্লাই চেনগুলোকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এসব নীতির ফলে দেশটির সেবা খাতের কর্মযজ্ঞ ছিল ১১ মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রসারিত, যদিও এ প্রসারণ ছিল সবচেয়ে ধীরগতির।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..