প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ফেরির ১৪০-১৫২ শতাংশ হারে টোল পদ্মা সেতুতে

প্রজ্ঞাপন জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী মাসের শেষ দিকে খুলে দেয়া হবে পদ্মা সেতু। ২৫ জুন সেতুটি উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে পদ্মা সেতুতে যান চলাচলের জন্য টোলের হার ঘোষণা করা হলো। গতকাল এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বর্তমান ফেরির চার্জের তুলনায় যানবাহনভেদে ১৪০ থেকে ১৫২ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা হয়েছে পদ্মা সেতুর টোল।

প্রজ্ঞাপন অনুসারে, বর্তমানে ফেরিতে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি রুটে বাইক পারাপারে চার্জ ৭০ টাকা। আর পদ্মা সেতুতে বাইক পারাপারে টোল দিতে হবে ১০০ টাকা। এছাড়া প্রাইভেট কার ও জিপে ফেরি পারাপারের চার্জ দিতে হয় ৫০০ টাকা। পদ্মা সেতুতে এ ধরনের মোটরযানে টোল দিতে হবে ৭৫০ টাকা। সেতুটিতে পিকআপ পারাপারে টোল দিতে হবে এক হাজার ২০০ টাকা, ফেরিতে যা ৮০০ টাকা।

পদ্মা সেতুতে মাইক্রোবাস পারাপারে টোল দিতে হবে এক হাজার ৩০০ টাকা। ফেরিতে এ চার্জ ৮৬০ টাকা। আর ছোট বাসে (৩১ আসনের কম) এক হাজার ৪০০ টাকা টোল ধরা হয়েছে। আর মাঝারি বাস (৩২ আসন বা তার বেশি) দুই হাজার টাকা ও বড় বাসে (তিন এক্সেল) দুই হাজার ৪০০ টাকা টোল ধরা হয়েছে। ফেরিতে এ তিন ধরনের বাসে চার্জ যথাক্রমে ৯৫০ টাকা, এক হাজার ৩৫০ টাকা ও এক হাজার ৫৮০ টাকা।

এদিকে পদ্মা সেতুতে পণ্যবাহী যান চলাচলের জন্য ছোট ট্রাকে (পাঁচ টনের কম) টোল এক হাজার ৬০০ টাকা, মাঝারি ট্রাকে (পাঁচ থেকে আট টন) দুই হাজার ১০০ টাকা এবং বড় ট্রাকে (আট টনের বেশি) দুই হাজার ৮০০ টাকা ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান ফেরির চার্জের যথাক্রমে এক হাজার ৮০ টাকা, এক হাজার ৪০০ টাকা ও এক হাজার ৮৫০ টাকা। এছাড়া পদ্মা সেতুর তিন এক্সেলের ট্রাকে টোল দিতে হবে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা, ফেরিতে যা তিন হাজার ৯৪০ টাকা।

এর বাইরে পণ্যবাহী কনটেইনার তথা ট্রেইলারে পৃথক হারে টোল আরোপ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে চার এক্সেলের ট্রেইলারে টোল ছয় হাজার টাকা আর চার এক্সেলের বেশি হলে ছয় হাজার টাকার সঙ্গে পরবর্তী প্রতি এক্সেলের জন্য দেড় হাজার টাকা করে অতিরিক্ত টোল যোগ হবে। তবে ফেরিতে বর্তমানে ট্রেইলার পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে এটি নতুন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

পদ্মা সেতুর টোল নির্ধারণ কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রাথমিকভাবে ফেরির দেড়গুণ তথা ১৫০ শতাংশ হারে পদ্মা সেতুর টোল নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হয়। তবে সরাসরি দেড়গুণ করতে হলে ভাঙতির টাকার ঝামেলা এসে পড়বে। তাই রাউন্ড ফিগার হিসেবে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই কিছু ১৫০ শতাংশের চেয়ে ক্ষেত্রবিশেষে টোল কম বা বেশি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা জেডিসিএফ বাবদ অনুদান পেয়েছে সেতু বিভাগ। বাকি ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এক শতাংশ সুদসহ ৩৫ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে সেতু বিভাগকে। প্রতি বছর চার কিস্তি হিসেবে ১৪০টি কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

এদিকে ২০১০ সালের পদ্মা বহুমুখী সেতুর ডিটেইলড ইকোনমিক অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী সেতুটিতে যান চলাচলের সংখ্যা ধরা হয়েছে। এতে ২০২২ সালে সেতুটিতে দৈনিক গড়ে সাত হাজার ৮৩৫টি যানবাহন চলাচলের কথা। আর উদ্বোধনের ৩৫তম বছর, অর্থাৎ ২০৫৬ সালে সেতুটিতে দৈনিক যানবাহন চলাচলের সংখ্যা ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ২৭২টি।