পত্রিকা

ফের কমেছে ব্যাংক খাতের লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক খাতের লেনদেনে টালমাটাল অবস্থান বিরাজ করছে। আগের সপ্তাহে কিছুটা বাড়লেও ফের খাতটির লেনদেন কমেছে। তবে অন্য দুয়েকটি খাতের লেনদেন বেড়েছে। লেনদেন বাড়ার তালিকায় রয়েছে বস্ত্র ও প্রকৌশল খাত। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য পর্যালোচনায় এমনটিই জানা গেছে।

তথ্যমতে, গেল সপ্তাহে মোট লেনদেনের ব্যাংক খাতের দখলে ছিল ১৫ শতাংশ। আলোচিত সময়ে ব্যাংক খাতের দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে মোট লেনদেনে ব্যাংক খাতের দখলে ছিল ২০ শতাংশ। ওই সময় খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছিল ৬৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে টাকার অঙ্কে বাড়লেও মোট লেনদেনে অংশগ্রহণ ৫ শতাংশ কমেছে। যদিও ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন ব্যাংক খাতের দখলে ছিল ১৬ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের মধ্যে লেনদেন বাড়লেও ফের তা কমেছে।

এদিকে, গেল সপ্তাহে বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতের লেনদেন বেড়েছে। এর মধ্যে মোট লেনদেনে বস্ত্র খাতের অংশগ্রহণ ছিল ১৩ শতাংশ। আলোচিত সময়ে খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৬৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১৫ শতাংশ। এ সময় খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৭৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে মোট লেনদেনে বস্ত্র খাতের অংশগ্রহণ ছিল ১০ শতাংশ। আলোচিত সময় খাতটির লেনদেন হয়েছিল ৩৪ কোটি ২২ লাখ টাকা। লেনদেনে প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল ১২ শতাংশ। ওই সময় খাতটির লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতের আলাদাভাবে লেনদেন বেড়েছে ৩ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক খাতের লভ্যাংশের মৌসুম চলছে। তবে এখনও কোনো ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। বিপরীত দিকে ব্যাংকগুলোর ঋণ-আমানত অনুপাত কমিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনা জারি করেছে। এতে ব্যাংকগুলো ছোট বড় ঋণ বিতরণে সাবধানতা অবলম্বন করছে। অপরদিকে আমানতের সুদের হারও সামান্য বাড়িয়েছে ব্যাংকগুলো। এসব কারণে পুঁজিবাজারের চেয়ে ব্যাংকের দিকে আগ্রহী হয়ে উঠছে বিনিয়োগকারীরা। এসব কারণেও পুঁজিবাজারে ব্যাংকের লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এ সম্পর্কে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ব্যাংকগুলো এখনও ডিক্লারেশন শুরু করেনি। ডিক্লারেশন শুরু হলে বোঝা যাবে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ব্যাংকের শেয়ারে আছে কিনা। তবে আমানতের সুদের হার বাড়লে তো অনেকে সেদিকেই যাবে।

পিই রেশিও অনুযায়ী, ব্যাংক খাতের পিই রেশিও ৯ দশমিক চার পয়েন্টে অবস্থান করছে। এরপরই জ্বালানি ও বিমা খাতের পিই রেশিও। খাত দুটির পিই রেশিও যথাক্রমে ১২ দশমিক দুই পয়েন্ট এবং ১২ দশমিক এক পয়েন্ট। এছাড়া বস্ত্রখাতের পিই রেশিও ২০ দশমিক ৯ পয়েন্টে এবং প্রকৌশল খাতের পিই রেশিও ২১ দশমিক সাত পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও ছিল ৯ দশমিক তিন পয়েন্টে। এর পরপরই জ্বালানি ও বিমা খাতের পিই রেশিও এর অবস্থান ছিল। খাত দুটির পিই রেশিও ছিল ১২ দশমিক দুই পয়েন্টে। এছাড়া বস্ত্র খাতের পিই রেশিও ২০ দশমিক এক পয়েন্টে এবং প্রকৌশল খাতের পিই রেশিও ২১ দশমিক এক পয়েন্টে অবস্থান করেছিল। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ খাতের পিই রেশিও সামান্য বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যতদিন পর্যন্ত পিই রেশিও ১৫ এর ঘরে থাকে ততদিন বিনিয়োগ নিরাপদ। তাছাড়া শেয়ার দর বাড়া-কমার সঙ্গে পিই রেশিও ওঠানামা করে।

উল্লেখ্য, বাজারে ব্যাংক খাতের ৩০টি, বস্ত্রখাতের ৪৯টি ও প্রকৌশল খাতের ৩৬ প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত আছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..