প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ফের নাসিকের মেয়র হলেন আইভী

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রায় দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী।

১৭৪ কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮২৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৬৭৪ ভোট। অর্থাৎ আইভী ৭৮ হাজার ১৫২ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার নাসিকের মেয়র নির্বাচিত হলেন তিনি। তবে এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে এ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।

নারায়ণগঞ্জে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩১ জন। তাদের মধ্যে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৬২ জন পুরুষ এবং ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৯ জন নারী।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এবার ভোট পড়েছে ৬৫ শতাংশ। গতবার ছিল ৬৯ শতাংশ।

দলীয়ভাবে ও দলীয় প্রতীকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনেই প্রথম ভোট গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় শুরু হয়ে শেষ হয় বিকাল ৪টায়। নির্বাচনে তেমন কোনো অপ্রীতিকর বা সহিংস ঘটনার খবর মেলেনি। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ হয়েছে।

নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৭৪টি, ভোটকক্ষ ১ হাজার ৩০৪। সবক’টি ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে

উল্লেখ করা হয়েছে। মোট পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ৩২২। এর মধ্যে দুজন বিদেশি পর্যবেক্ষক রয়েছেন

বলে কমিশন থেকে জানা গেছে। দেশি ১৬টি সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে।

দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মোট ২০১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মেয়র পদে লড়াই করেন সাতজন। যদিও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী কামাল প্রধান ও কল্যাণ পার্টির রাশেদ ফেরদৌস বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যান। অন্য তিন প্রার্থী হলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মাহবুবুর রহমান ইসমাইল (কোদাল), ইসলামী আন্দোলনের মাসুম বিল্লাহ (হাতপাখা) ও ইসলামী ঐক্যজোটের ইজহারুল হক (মিনার)। ২৭ ওয়ার্ডে ২৭টি কাউন্সিলর পদে প্রার্থী ১৫৬ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ৯টি পদে ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে প্রথম ভোট হয় ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর। নির্দলীয় ওই নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ আইভী ১ লাখ ৮০ হাজার ভোট পেয়ে

নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান পেয়েছিলেন ৭৮ হাজার ভোট। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ভোটের সাত ঘণ্টা আগে সরে দাঁড়ান।

নারায়ণগঞ্জে শান্তিপূর্ণ ভোট সবার সহযোগিতায়: সিইসি

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পাওয়ায় গোলযোগহীন ভোট করা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। নিজেদের

মেয়াদের শেষ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে বর্তমান ইসির ব্যাপক তৎপরতা ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার কোনো ধরনের সহিংসতা ছাড়াই ভোটগ্রহণ শেষে ইসি কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিল স্বস্তির ভাব। বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ইসি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসেন সিইসি কাজী রকিব। খবর বিডিনিউজ

তিনি বলেন, সবার সহযোগিতায় কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ছাড়াই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

দলীয় প্রতীকের এ নির্বাচনের ভোটচিত্রে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী সন্তোষ জানিয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানও সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ করেননি; তিনি শুধু বলেছেন, প্রভাব বিস্তারের কারণে কেন্দ্রে ভোটার সংখ?্যা কম বলে মনে হচ্ছে তার।

সহিংস ইউনিয়ন ও পৌর নির্বাচনের পর নারায়ণগঞ্জ নগরীর ভোটচিত্রে সন্তোষ জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরাও। তারা বলছেন, প্রার্থী, দল, ভোটার, আইন শৃঙ্খলাবাহিনী ও সরকারের সহায়তা-এ পাঁচটি একসূত্রে কাজ করায় ভোট ভালো হয়েছে।

সিইসি বলেন, জায়গাটা (নারায়ণগঞ্জ) আয়তনে ছোট, ইজি একসেসেবল। ইসির মতবিনিময়ে প্রার্থীরা সবাই বলেছিল, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করবো। প্রার্থী এবং সমর্থকরা সহযোগিতা করেছিল। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সমর্থকরা সহযোগিতা করলে সহিংসতা ঘটার কোনো সম্ভাবনা থাকে না।

সিইসি জানান, আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে তিনজনকে আট হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া বড় ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভোটের সময় তৎপর ছিল ভ্রাম?্যমাণ আদালত ভোটের সময় তৎপর ছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ইসির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সিইসির সঙ্গে ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক, মো আবু হাফিজ, মো জাবেদ আলী ও ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।