প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ফের নিলামে উঠতে যাচ্ছে ১০৮ বিলাসবহুল গাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কার্নেট ডি-প্যাসেজ সুবিধায় আসা শতাধিক বিলাসবহুল গাড়ি দেড় যুগের বেশি সময় ধরে পড়ে আছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এসব গাড়ি বিভিন্ন সময়ে পাঁচবার নিলামে উঠলে আশানুরূপ বিক্রয় হয়নি। একই সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ক্লিয়ারিং পারমিট (সিপি) না পাওয়ায় ছাড়করণেও জটিলতা ছিল। সম্প্রতি গাড়িগুলোর সিপি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ফলে আগের নিলামে বিক্রি না হওয়া অবশিষ্ট বিলাসবহুল গাড়িগুলো নিলামে তুলতে চট্টগ্রাম কাস্টমসের আর বাধা নেই।

জানা যায়, ৫ বছর সময়ের আগে উৎপাদন হয়েছে এমন গাড়ি বাংলাদেশে আমদানি নিষিদ্ধ। ফলে এমন গাড়ি কেউ আমদানি করলেও নিলাম অথবা বিক্রি করার বিধান ছিল না। ফলে এর আগে অনুমতি না থাকায় একাধিকবার নিলামে তোলা হলেও বিক্রি হয়নি গাড়ি। তবে বিশেষক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ক্লিয়ারিং পারমিট নিতে পারলে নিলামে পাওয়া গাড়ি ছাড়করণে অনুমতি ছিল।

এদিকে গত বছরের ৪ নভেম্বর নিলামে উঠেছিল ১১২টি গাড়ি। তার মধ্যে তিনটি গাড়ি বিক্রি হয়েছিল। বাকিগুলোর মধ্যে এবার নিলামে তোলা হবে ১০৮টি গাড়ি। এসব গাড়ি দেড় যুগের বেশি সময় ধরে পড়ে আছে বন্দরে, যা উৎপাদন হয়েছে আরও কয়েক বছর আগে। ফলে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এসব গাড়ির সিপি পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কমিটির মাধ্যমের পুনরায় ইনভেন্ট্রি করে গাড়িগুলোর সিপি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ফলে গত রমজান মাসেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিবের সমন্বয়ে পুনরায় ইনভেন্ট্রি করে ক্লিয়ারিং পারিমিট (সিপি) দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ফলে এই মাসের শেষ সপ্তাহে এসব গাড়ি নিলামের তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস।

যদিও ব্যবসায়ীরা জানান, নিলামে তোলা গাড়িগুলোর মান খারাপ। একই সঙ্গে এসব গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করতে গেলেও ঝামেলা হয়। ফলে এসব গাড়ি বিক্রি করতে সমস্যা হয়। তই এসব গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সহজ করার দাবি জানান।

চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মো. ফখরুল আলম বলেন, সহজে সিপি পাওয়ার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তারপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে একজন যুগ্ম সচিব এসে ইনভেন্ট্রি করে সিপি দিয়েছেন। এখন মন্ত্রণালয়ের কোনো বাধা রইল না। তাই এ মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে গাড়িগুলো নিলামে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। গতবারের নিলামেও ২০টি গাড়ির সিপি নেয়া ছিল। বাকি গাড়িগুলোর সিপি এখন পাওয়া গেছে। গত ৪ নভেম্বর কারনেট সুবিধায় আসা এসব গাড়ি ইলেকট্রনিক নিলামের (ই-অকশন) মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। সে সময় আমরা মাত্র তিনটি গাড়ি বিডারকে দিতে পেরেছি। তবে এবার তোলা হবে ১০৮টি।’

উল্লেখ্য, গাড়িগুলোর মধ্যে মিৎসুবিসি ২৬টি, মার্সিডিজ বেন্জ ২৫টি, বিএমডব্লিউ ২৫টি, রেঞ্জরোভার ৭টি, ল্যান্ডক্রুজার ৭টি, একটি সিআরভি, লেক্সস ৬টি, ফোর্ড ৫টি, জাগুয়ার ৩টি, একটি দাইয়ু ও একটি হোন্ডাসহ নামিদামি ব্র্যান্ডের গাড়ি মিলিয়ে মোট ১০৮টি গাড়ি রয়েছে।