প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ফের বাড়ছে তিস্তা-ধরলার পানি

প্রতিনিধি, লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের তিস্তা-ধরলার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। এক রাতেই এ পানি বৃদ্ধি পায়। ২৮ জুন রাত ৯টায় তিস্তা-ধরলার পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। কিন্তু গতকাল সকাল ৯টায় দুই নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে চলে যায়। বিকাল ৩টায় তিস্তা নদীতে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড নিশ্চিত করেছে। তবে তিস্তায় পানি বাড়লেও এখন পর্যন্ত ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার সাত সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, গতকাল রাতে যা বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এদিকে শঙ্কাজনকভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ধরলায়। সকাল ৯টায় শিমুলবাড়ী পয়েন্টে বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। গতকাল রাত ৯টায় ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, দুই নদীর পানি বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কালিংপং, দার্জিলিং, গ্যাংটকের ভারী বৃষ্টিপাতের কথা বলেছেন। এর সঙ্গে স্থানীয় বৃষ্টিপাতও রয়েছে। এ অবস্থায় তিস্তার ডান তীরের হাজার হাজার মানুষের। তারা আশঙ্কা করছেন, রাত পোহালেই সবার বাড়িতে কোমর বা হাঁটুপানি দেখবেন।

ইউনিয়ন পরিষদগুলোর জনসংখ্যার হিসাবে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আদিতমারীর মহিষখোচার মঞ্জু মিয়া (৫০) ও মাহবুবার রহমান (৪০) বলেন, তাদের এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে। কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসেবা তারা পাচ্ছেন না। গবাদিপশু নিয়ে উঁচু স্থানে থাকতে হচ্ছে। রাতের বেশিরভাগ সময় নির্ঘুম থাকছেন। প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে তারা কোনো সেবা পাচ্ছেন না। জরুরি প্রাণিসেবা না পেলে বিপর্যস্ত হবে সবকিছু।

এখন পর্যন্ত এলাকাগুলোর প্রায় সব স্থান তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। পানি ঢুকেছে ঘরে। রাস্তাঘাট ও নদীতীরে ভাঙন দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত এলাকাবাসী তিনটি বাড়ি ভাঙনের তথ্য দিয়েছেন। এমন জলাবদ্ধতায় তারা গবাদি পশুসহ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। গবাদি পশুর কোনো চিকিৎসা পাননি তারা। ভেঙে গেছে সেনিটেশন ব্যবস্থা। তবে তীরবর্তী মানুষ এখন পর্যন্ত কোনো স্বাস্থ্যসেবা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। গবাদি পশুর জন্য চিকিৎসা সহায়তা পাননি তারা।

নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাবে। সেইসঙ্গে উজানে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টিপাত কমতে পারে।

মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী তার নিজ ইউনিয়নে পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি আছে বলে জানান।

জেলা প্রশাসক শেয়ার বিজকে বলেন, আমি কয়েকটি ইউনিয়নে রাতে ঘুরেছি। নতুন করে বরাদ্দ দিয়েছি। মোট ২৮৩ দশমিক এক মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া আছে। সূত্র বলছে, নতুন করে ৩৫০ মেট্রিক টন চাল ও ৯ লাখ টাকার বরাদ্দ হয়েছে।