প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ফের বাড়ছে লোকসানি ইমাম বাটনের দর

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের শুরু থেকে বেশ কিছুদিন ইমাম বাটনের শেয়ারদর নিম্নমুখী ছিল। তবে গত কিছুদিন ধরে আবারও টানা বাড়তে শুরু করেছে এর দর। দর বাড়লেও কোনো ধরনের ‘মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই’ বলে জানিয়েছেন কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে লোকসানি কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তথ্যমতে, গত বছর অক্টোবর মাসে কোম্পানির শেয়ারদর ফেস ভ্যালুর নিচে লেনদেন হতে দেখা গেছে। পরে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলে কোম্পানির  শেয়ারদর বেড়ে ফেস ভ্যালুর ওপরে উঠে আসে। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে শেয়ারদর আবারও নিম্ন মুখী ধারায় ফিরে যায়। তবে গত জুনের শুরুতে কোম্পানির শেয়ারদর ফের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে, যা গতকাল রোববারও অব্যাহত ছিল।

এদিকে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেশিরভাগ সময় বাড়লেও কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই কোম্পানির কাছে। এমনকি কোম্পানিটি লোকসানের পাশাপাশি পুঞ্জীভূত লোকসানেও রয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ এক কোটি ৩১ লাখ টাকা।

লেনদেন তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত জুনের প্রথম সপ্তাহের শেষদিকে কোম্পানিটির শেয়ার সর্বোচ্চ ১৪ টাকায় লেনদেন হয়েছে। দুই সপ্তাহ টানা বাড়ার পর আবার নি¤œমুখী ধারায় লেনদেন হয়। গত তিন কার্যদিবস ধরে ফের শেয়ারদরে উল্লম্ফন দেখা গেছে। গতকাল কোম্পানির শেয়ার সর্বশেষ ১৭ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে এক টাকা ২০ পয়সা বা সাত দশমিক ৩২ শতাংশ।

দর বাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে কোম্পানিসচিব মো. মহিউদ্দিন মিয়া জানান, কী কারণে দর বাড়ছে তা  জানা নেই। তা ছাড়া দর বাড়ার কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য কোম্পানির কাছে নেই বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইমাম বাটন যেমন লোকসানে রয়েছে তেমনি প্রতিষ্ঠানটি নানা অনিয়মের সঙ্গেও যুক্ত। কিছুদিন আগে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে। এ কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করে। যদিও পরে কোম্পানির পর্ষদ বিষয়টি আপিল করে। তা ছাড়া শতভাগ উৎপাদনেও নেই কোম্পানিটি। সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতেও ব্যর্থ কোম্পানিটি। এ অবস্থায় কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ায় কোনো অসৎ চক্রের কাজ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি করা উচিত। তা ছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। একই সঙ্গে লোকসানি এমন একটি কোম্পানির দর বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কোম্পানির লভ্যাংশ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। অর্থাৎ আলোচিত সময়ে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা ডিভিডেন্ড গেইন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

পুঁজিবাজারে ১৯৯৬ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন সাত কোটি ৭০ লাখ টাকা। কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ৭৭ লাখ। এরমধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৩১ দশমিক ৫৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫৩ দশমিক শূন্য নয় শতাংশ শেয়ার রয়েছে।