ফের সপ্তাহজুড়ে শীর্ষে ব্যাংক খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গতকালও পুঁজিবাজারে পতন ঘটে। সপ্তাহজুড়ে পতনের মধ্যে থাকা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন হ্রাস পায় শূন্য দশমিক ৬৬ শতাংশ। সেই সঙ্গে বিক্রয় প্রবণতায় দিন শেষে মূল্যসূচক হ্রাস পায় ৬৫ পয়েন্ট।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল দিনের শুরু থেকে বিক্রেতারা সক্রিয় ছিলেন। বেশিরভাগ খাতে বিক্রয় প্রবণতা থাকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজারে। ১৯টির মধ্যে ১২টি খাতের শেয়ারের দর কমে। অন্যদিকে মাত্র ৭টি খাতের শেয়ারের দর বাড়ে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে আরও জানা যায়, গতকাল আইটি ও টেলিযোগাযোগ খাতে ‘ক্রয় চাপ’ ছিল। আর সেবা ও রিয়েল এস্টেট ও সিরামিকস খাতে ‘বিক্রয় চাপ’ বেশি ছিল। এছাড়া গতকাল ‘জেড’ ক্যাটেগরির শেয়ারে ‘ক্রয় চাপ’ ও ‘বি’ ক্যাটেগরির শেয়ারে ‘বিক্রয় চাপ’ বেশি ছিল।
ধারাবাহিকভাবে দুই সপ্তাহ লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে ব্যাংক খাত। আগের কার্যদিবস বুধবারে এ খাতের সব কোম্পানির শেয়ারদর হ্রাস পায়। তবু লেনদেনে সবার ওপরে থাকতে দেখা গেছে। গতকাল ডিএসইতে মোট ৮৪৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়। এতে সর্বোচ্চ ২৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ অবদান রাখে ব্যাংক খাত। আগের কার্যদিবসে এ খাতের অবদান ছিল ৪৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আগের কার্যদিবসে কোনো কোম্পানির শেয়ারদর না বাড়লেও গতকাল চারটি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে শেয়ারদর হ্রাস পায় ২৮টির।
দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বিবিধ খাত। ১৫ দশমিক ৭১ শতাংশ অবদান রাখা এ খাতের ৮টি কোম্পানির শেয়ারদর হ্রাস পায়। অন্যদিকে দর বেড়েছে তিনটি কোম্পানির ও অপরিবর্তিত ছিল দুটির। আগের কার্যদিবসে এ খাতের অবদান ছিল ১৪ দশমিক ১৬ শতাংশ।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা বস্ত্র খাতের অবদান ছিল ১১ দশমিক ৭১ শতাংশ। ৩০টি কোম্পানির শেয়ারদর হ্রাস পাওয়ার বিপরীতে দর বাড়ে ১৬টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৭টির। আগের কার্যদিবস বুধবারে এ খাতের অবদান দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৫২ শতাংশ।
চতুর্থ অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতের অবদান ছিল ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আগের কার্যদিবসে এটি ছিল ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ। গতকাল ১৯টি কোম্পানির শেয়ারদর হ্রাস পাওয়ার বিপরীতে বাড়ে ৮টির।
পঞ্চম অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের ২৪টি কোম্পানির শেয়ারদর হ্রাস পায়। অন্যদিকে দর বাড়ে ১৩টির ও অপরিবর্তিত ছিল চারটির। বুধবারে ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ অবদান রাখলেও গতকাল সেটা কমে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশে।
এছাড়া গতকাল আইটি ৫ দশমিক ৫৫, বিমা ৩ দশমিক ৫০, ট্যানারি ৩ দশমিক ৩৫ ও খাদ্য খাতের অবদান ছিল ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ। গতকাল আর কোনো খাতের অবদান তিন শতাংশ ছাড়ায়নি।
গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৫ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ছয় হাজার ৮৫২ পয়েন্টে, ডিএসইএস এক হাজার ৪৪২ শতাংশ ও ডিএস৩০ সূচক ২৮ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে দুই হাজার ৬০২ পয়েন্টে স্থির হতে দেখা যায়। গতকাল লেনদেন হওয়া সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বাড়ে ৮৯টির, কমে ২৪১টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৩২টির।


সর্বশেষ..