প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ফের স্বল্প মূলধনি কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদন: বেশ কয়েকদিন ধরে বাজারে মন্দাভাব বিরাজ করছে। এর মধ্যে প্রায় প্রতিদিন স্বল্পমূলধনি দুর্বল ও লোকসানি কোম্পানির দর বাড়ছে। গতকাল বুধবারও সর্বোচ্চ দর বাড়ার শীর্ষ দশে ছিল দুর্বল ও স্বল্পমূলধনি কোম্পানিগুলো। কোনো কারণ ছাড়াই এসব কোম্পানির দর বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গতকাল স্বল্পমূলধনি, দুর্বল ও লোকসানি যেসব কোম্পানির দর বেড়েছে সেগুলো হলো জিলা বাংলা সুগার, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, মুন্নু সিরামিক, ফাইন ফুড, সাফকো স্পিনিং, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেশ কিছুদিন বাজার গতিশীল ছিল। ওই সময় বাজারে অসময়ের শেয়ারদর বেড়েছে, অর্থাৎ জুন ক্লোজিংয়ের সময় ডিসেম্বর ক্লোজিংয়ের শেয়ারদর বেড়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি মন্দা হলেও কিছু স্বল্প মূলধনি ও দুর্বল কোম্পানির দর বাড়ছে। এসব কোম্পানির জুনে হিসাববছর শেষ হয়েছে। তাদের কেউ কেউ লভ্যাংশ ঘোষণা করবে বা করছে। তাছাড়া কিছু কোম্পানির পেছনে কোনো অসৎ চক্র জড়িত থাকায় সেগুলোর দরে হঠাৎ উল্লম্ফন দেখা দেয়। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি থাকা উচিত বলে মনে করছেন তারা।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘বর্তমান সময়ে জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর ডিক্লারেশন আসছে। তাই তাদের দর বাড়া স্বাভাবিক। সেভাবে ভালো কোম্পানির দর বাড়তে দেখা যাচ্ছে না। তবে লোকসানি কোম্পানির দরে কেন বাড়ছে এ বিষয়ে বিএসইসির নজর দেওয়া উচিত।’

তথ্যমতে, জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেডের শেয়ারদর আগের দিনের চেয়ে গতকাল ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ বা পাঁচ টাকা ৯০ পয়সা বেড়েছে। এর শেয়ার গতকাল ৬৫ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে, যা ওই কোম্পানির সর্বোচ্চ দরসীমা স্পর্শ (সার্কিট ব্রেকার) করেছে। প্রসঙ্গত, জিল বাংলার শেয়ার গত আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে বাড়তে থাকে। ওই সময় কোম্পানির শেয়ার ৪০ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন হয়। এর পর থেকে দর বেড়ে গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৭৩ টাকা পয়সায় লেনদেন হয়েছে। পরবর্তী সময় দর পতন হলেও তিন দিন ধরে কোম্পানির শেয়ারদর আবার বাড়ছে।

কোম্পানির লভ্যাংশের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। এদিকে কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৭ কোটি টাকা। সর্বশেষ তৃতীয় প্রান্তিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানির গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই টাকা ৯৬ পয়সা।

এদিকে ঢাকঢোল পিটিয়ে বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড নানা অনিয়ম ও লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কোম্পানির শেয়ারদর গতকাল আগের দিনের চেয়ে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। কোম্পানির শেয়ার গতকাল ১০ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিটি ২০১৪ সালে তালিকাভুক্ত হয়ে পরের বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে লভ্যাংশ দিয়েছে। ২০১৬ সালে লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়ে কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থান করে নেয়।

কোম্পানির সর্বশেষ প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে মার্চ তিন মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল আট পয়সা। লোকসান হওয়ার পরও কোম্পানিটির শেয়ারদরে মাঝেমধ্যে উল্লম্ফন দেখা যায়। এ কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে দর বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটিকে। কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দর বাড়ার কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য কোম্পানির কাছে নেই।

অন্যদিকে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং লিমিটেড গতকাল লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। লভ্যাংশ ঘোষণার আগে কোম্পানির শেয়ারে উল্লফন দেখা দিয়েছে। কোম্পানির শেয়ার চলতি বছর জানুয়ারি থেকে বাড়তে থাকে। ওই সময় কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ৬৭ টাকা ১০ পয়সা। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৯৪ টাকা ৪০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। এর পর থেকে কোম্পানির দর পড়তে থাকলেও গতকাল উল্লফন দেখা গেছে। অথচ কোম্পানিটির পুঞ্জীভ‚ত লোকসানের পরিমাণ দুই কোটি টাকা। তাছাড়া কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।

লোকসানি ও স্বল্পমূলধনি কোম্পানির দর বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। লঙ্কাবাংলায় ট্রেড করেন এমন একজন বিনিয়োগকারী রনি। তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে বাজারে জাঙ্ক শেয়ারের দর বাড়ছে। এসব কোম্পানির কোনোটি লোকসানে আছে, আবার কোনোটি দীর্ঘদিন ধরে লভ্যাংশ দিচ্ছে না। হঠাৎ দর বাড়া-কমায় এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে গেইন করা সম্ভব হচ্ছে না।’ তাই বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন বলে জানান তিনি।