দিনের খবর

ফেসবুকের ‘এজেন্টের’ বিরুদ্ধে ভ্যাট গোয়েন্দার মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মূল্য সংযোজন ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ ভঙ্গের দায়ে ফেসবুকের বাংলাদেশি এজেন্টের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। চলতি বছরের মে মাসে ফেসবুকের এজেন্ট হিসেবে এইচটিটিপুল বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ করে। যার বিআইএন নম্বর ০০২৮৪৮৮৩৬৭০২০৩। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভ্যাট গোয়েন্দার মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

## এজেন্ট নিয়োগের বিষয় জানে না এনবিআর

## তিন মাসে ৯৩ লাখ টাকা ভ্যাট সংগ্রহ করে জমা দেয়নি

মহাপরিচালক জানান, প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ব্যবহার করা হয় শাহ আলী টাওয়ার, ১১ তলা, ৩৩ কাওরানবাজার, ঢাকা। অভিযোগের সূত্রে ভ্যাট গোয়েন্দা সংস্থা দেখতে পায় যে, নিবন্ধিত স্থানে প্রতিষ্ঠানটির কোন কার্যক্রম বা অস্তিত্ব নেই। ভ্যাট আইন অনুসারে অফিস পরিবর্তন করতে হলে ভ্যাট অফিসকে জানাতে হবে। তাদের এই পরিবর্তনের কোন নোটিস দেয়া হয়নি।

অনুসন্ধানে ভ্যাট গোয়েন্দারা জানতে পারে, ফেসবুকের এজেন্ট হিসেবে তিন মাস পূর্বে নিবন্ধন নিলেও এখন পর্যন্ত কোন রিটার্ন দাখিল করেননি। ভ্যাট আইন অনুসারে প্রতি মাসে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। এইচটিটিপুল প্রতি মাসে রিটার্ন দাখিল না করায় প্রতিষ্ঠানটির কর্তনকৃত ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি।

ভ্যাট গোয়েন্দার অনুসন্ধান অনুযায়ী, স্থানীয় ফেসবুক এজেন্ট ইতোমধ্যে ৩১টি প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ১৯৮টি চালানে ছয় কোটি ২২ লাখ টাকার বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করেছে। এতে তারা ১৫ শতাংশ হারে ৯৩ লাখ ৩২ হাজার টাকার ভ্যাট কর্তন করেছে। ফেসবুক এজেন্টের ঠিকানা সঠিকভাবে ব্যবহার না করায় এবং মাসিক রিটার্ন জমা না করায় তাদের হাতে থাকা ভ্যাটের ৯৩ লাখ ৩২ হাজার টাকা ফাঁকির সম্ভাবনা রয়েছে।

এই কর্তনকৃত টাকা সরকারের কোষাগারে জমা হওয়া ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ায়, মাসিক রিটার্ন দাখিল না করায় এবং অনুমোদন ব্যতিরেকে অস্তিত্বহীন হওয়ায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটে পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরো অনিয়েমের সাথে জড়িত কিনা তা ভ্যাট গোয়েন্দা খতিয়ে দেখছে বলেও জানান ড. মইনুল খান।

অপরদিকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, সার্চ ইঞ্জিন গুগুল, ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব কয়েকটি মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণ বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাংকিং চ্যানেলে বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করা হয় না। ফলে সরকার এসব বিজ্ঞাপন থেকে সঠিকভাবে রাজস্ব পায় না।

বহুজাতিক এসব প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে কোন অফিস নেই। ফলে ভ্যাট নিবন্ধন নেই। এসব প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন নিতে তাগাদা দেওয়া হলেও কোন প্রতিষ্ঠান এজেন্ট নিয়োগ বা নিবন্ধন নেয়নি। সম্প্রতি চুপিসারে এইচটিটিপুল নামে বাংলাদেশে একটি প্রতিষ্ঠানকে চুপিসারে ফেসবুক এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়। সংস্থাটি দাবি, সব নিয়ম মেনেই ভ্যাট নিবন্ধন নেওয়া হয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, ফেসবুক, গুগল, ইউটিইউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি নিয়ে ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল হাইকোর্টে একটি রিট দাখিল হয়। ১২ এপ্রিল আদালত এসব মাধ্যম থেকে রাজস্ব আদায়ের চিত্র ও রাজস্ব ফাঁকির প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়। এনবিআর একটি প্রতিবেদন দিলেও আদালত তা গ্রহণ করেনি। এরপর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেয় এনবিআর।

যাতে এসব মাধ্যমের ভ্যাট ও আয়কর আদায়ের তথ্য চাওয়া হয়। নতুন ভ্যাট আইন অনুযায়ী ইলেকট্রনিক সেবার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট কর্তনের বিধান রয়েছে। ২০১৯ সালের ২৬ জুন এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করে। যাতে ফেসবুক, গুগল, মেসেঞ্জার, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপের মতো অনাবাসী প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ইলেকট্রনিক সেবাকে ভ্যাটের আওতায় আনার নির্দেশনা জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ফেসবুক, টুইটারসহ জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব ও অনুসন্ধান ইঞ্জিন গুগলকে মূসক এজেন্ট নিয়োগ দিতে হবে। নিবন্ধন এসব প্রতিষ্ঠানের নামে হলেও মূসক এজেন্টরা ওইসব প্রতিষ্ঠানের (ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, গুগল ইত্যাদি) হয়ে ব্যবসা পরিচালনা করবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..