প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ফেসভ্যালুর নিচে ২৬ মিউচুয়াল ফান্ডের দর

নাজমুল ইসলাম ফারুক: দেশের পুঁজিবাজার বেশ কিছুদিন ধরে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। বাজারে লেনদেন ৯০০ কোটি টাকা পার করেছে। বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ, বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর। তারপরও ইতিবাচক বাজারে এখনও ফেসভ্যালুর নিচে রয়েছে ২৬ মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের দর। ফলে এসব ফান্ডের বিনিয়োগকারীরা এখনও লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারছেন না।
তথ্যমতে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের সংখ্যা ৩৩৯টি। এর মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ডের সংখ্যা ৩৫টি। ফান্ডগুলোর মধ্য ২৬টির দর ফেসভ্যালুর নিচে বেচাকেনা হচ্ছে। যেসব ফান্ডের দর অভিহিত মূল্যের নিচে অবস্থান করছে সেগুলো হলো ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড, এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড, গ্রীন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল থার্ড এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড, আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট মিউচুয়াল ফান্ড ১ : স্কিম ১, আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, আইএফআইসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, আইএফআইসি ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড-১, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১, ফনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, প্রাইম ব্যাংক ফার্¯¡ আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ড, ‘রিলায়েন্স ওয়ান’ দ্য ফার্¯¡ স্কিম অব রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স মিউচুয়াল ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্স ফান্ড।
মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে পিএইচপি ফার্¯¡ মিউচুয়াল ফান্ড এবং পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ চার টাকা ৮০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। তাছাড়া ফেসভ্যালুর কাছাকাছি বেচাকেনা হয়েছে ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্স ফান্ড। এ ফান্ডের ইউনিট সর্বশেষ আট টাকা ৭০ পয়সায় বেচাকেনা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর পুঁজিবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও সুদিন ফিরেনি মিউচুয়াল ফান্ডে। এ খাতে করুণ অবস্থা রয়েই গেল। তারা বলেন, নিরাপদ বিনিয়োগের জন্য গঠন হয় মিউচুয়াল ফান্ড। মুনাফা পেতেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকারীরা। বাজার মন্দার কারণে দীর্ঘদিন ফান্ডগুলোর দর ফেসভ্যালুর নিচে। তবে বাজারে স্বস্তি ফিরলেও ফান্ডগুলো মন্দা কাটিয়ে ভালোর দিকে যেতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন তারা।
তারা আরও বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের মতো মিউচুয়াল ফান্ডে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ কম। ওইসব শেয়ারে অনেক সময় গুজবনির্ভর বেচাকেনা হয়। এতে কোনো কোম্পানির শেয়ারদর হঠাৎ বাড়ে বা কমে। কখনও কখনও দুর্বল কোম্পানির শেয়ার অনেক উচ্চমূল্যে বেচাকেনা হয়। তবে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোয় স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ করে হঠাৎ বড় ধরনের মুনাফা অর্জন করা কঠিন। তাই এ খাতে আগ্রহ অনেক কমছে। এসব কারণে ফান্ডগুলো মন্দা কাটিয়ে উঠতে দেরি হচ্ছে।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক সভাপতি এমএ হাফিজ বলেন, দীর্ঘদিন বাজার পরিস্থিতি মন্দার কারণে অনেক ফান্ডের ইউনিট দর ফেসভ্যালুর নিচে নেমে যায়। তবে বাজারে স্বাভাবিক ধারা অব্যাহত থাকলে সেগুলো ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, যেসব ফান্ড ভালো অবস্থানে রয়েছে তারা বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণে ভালো কোম্পানির তালিকা করে এবং সে সঙ্গে গবেষণা করে বিনিয়োগ করে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গুজব ও হুজুগে তারা কান দেয় না। তারা অধিক মুনাফার আশায় দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে না। আর এসব মিউচুয়াল ফান্ড ভালো করেছে বলে মনে করেন তিনি।