প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ফেস ভ্যালুতে ফিরেছে ১৩ কোম্পানির শেয়ার

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: টানা মন্দা পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠায় ক্রমেই ফেস ভ্যালুতে (অভিহিত দর) ফিরছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পতিত দরের কোম্পানিগুলো। সাম্প্রতিক সময়ে বেশি দরের শেয়ারের চেয়ে কম দরের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় এগুলো আবার ফেস ভ্যালুতে উঠে এসেছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

বাজার চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, সম্প্রতি ফেস ভ্যালুতে ফিরে এসেছে তালিকাভুক্ত ১৩টি কোম্পানির শেয়ার। এগুলো হচ্ছে: অলটেক্স, কেয়া কসমেটিকস, ইমাম বাটন, বিডি ওয়েলডিং, বিচ হ্যাচারি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, বিডি ফাইন্যান্স, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ও এক্সিম ব্যাংক।

উল্লিখিত কোম্পানিগুলোর শেয়ার দীর্ঘদিন ধরে ফেস ভ্যালু অর্থাৎ ১০ টাকার নিচে লেনদেন হচ্ছে। একসময় এসব কোম্পানির শেয়ারের চাহিদা থাকার কারণে এর দরও বেশি ছিল। মূলত ২০১০-এর ধসের পর এসব শেয়ারের চাহিদা কমতে শুরু করে। যার প্রভাব পড়ে এর শেয়ারের দরে। ফলে দর কমতে শুরু করে। সম্প্রতি বাজার পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো থাকায় এসব শেয়ারের দর একটু একটু করে বাড়ছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, কিছুদিন আগে এসব শেয়ার ৭ থেকে ১০ টাকার নিচে কেনাবেচা হচ্ছিল। এখন এর প্রতিটি শেয়ারই ১০ টাকার বেশি দরে লেনদেন হচ্ছে। সর্বশেষ দর অনুযায়ী, বর্তমানে এক্সিম ব্যংকের প্রতিটি শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে ১০ টাকা ৯০ পয়সায়। আর স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে ১১ টাকা ২০ পয়সায়। একইভাবে কিছুদিন ফেস ভ্যালুর নিচে থাকা এনসিসি ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ার এখন কেনাবেচা হচ্ছে ১১ টাকা ৩০ পয়সায়। ব্যাংকিং খাতের অপর কোম্পানি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ার গতকাল বৃহস্পতিবার ১২ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন নাজুক অবস্থায় থাকা সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ১১ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়। এদিকে বিডি ফাইন্যান্সের প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয় ১১ টাকা ৭০ পয়সায়। আর ফারইস্ট ফাইন্যান্সের প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয় ১০ টাকা ৯০ পয়সায়। একইভাবে বর্তমানে ইন্টারন্যাশন্যাল লিজিংয়ের প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ১০ টাকা ৯০ পয়সায়। এদিকে বিচ হ্যাচারির শেয়ার গতকাল সর্বশেষ হাতবদল হয় ১০ টাকা ৪০ পয়সায়। আর বিডি ওয়েলডিংয়ের শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ১০ টাকা ৭০ পয়সায়। ফেস ভ্যালু থেকে ফেরা বস্ত্র খাতের ইমাম বাটনের শেয়ার হাতবদল হচ্ছে ১২ টাকা ৮০ পয়সায়। অস্ত্র খাতের অপর কোম্পানি অলটেক্সের শেয়ার লেনদেন হয় ১০ টাকা ৮০ পয়সায়। কেয়া কসমেটিকসের শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ১১ টাকায়।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘যে কোম্পানিগুলো ভালো করছে, তার মধ্যে ব্যাংকিং খাতের কোম্পানিই বেশি। এর কারণ, এ খাতের কিছু সমস্যা ছিল। ব্যাংকগুলো তাদের বিনিয়োগ সমন্বয় করায় এখন সে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। আশা করছি, বিনিয়োগকারীদের এখন এ শেয়ারের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। তবে এ ক্ষেত্রে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের। তারা যদি এসব শেয়ারের দিকে নজর দেয়, তবেই খাতটি ঘুরে দঁাঁড়াতে পারবে। ইতোমধ্যে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।’

একই প্রসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসইর) সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, ‘এ কথা সত্য, বহুদিন থেকে কিছু শেয়ারের দর অনেক নিচে অবস্থান করছিল। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা না থাকা। এখন সে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। ফলে এসব শেয়ারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।’