কোম্পানি সংবাদ

ফ্যামিলি টেক্সের দর বেড়েছে ৩০ শতাংশ

সাপ্তাহিক বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বস্ত্র খাতের কোম্পানি ফ্যামিলিটেক্স (বিডি) লিমিটেড গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩০ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রমতে, গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে এক কোটি পাঁচ লাখ ২২ হাজার ৬০০ টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ পাঁচ কোটি ২৬ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর আট দশমিক তিন শতাংশ বা ৩০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ তিন টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন তিন টাকা ৭০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ তিন টাকা ৯০ পয়সায় ওঠানামা করে। এদিন ৬৪ লাখ ৪৯ হাজার ৮৯৩ শেয়ার ৯২৯ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর দুই কোটি ৪৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর দুই টাকা ৭০ পয়সা থেকে সাত টাকা ২০ পয়সায় ওঠানামা করে।
২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে, যা আগের বছরের সমান। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল সাত পয়সা ও এনএভি ১২ টাকা ২৯ পয়সা। এটি আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে চার পয়সা লোকসান ও ১২ টাকা ৯৮ পয়সা।
কোম্পানিটি ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ৪০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৩৫৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৬০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট ৩৫ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার ৩৮৮টি শেয়ার রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের চার দশমিক দুই শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ১৮ দশমিক ৪১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে বাকি ৭৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ শেয়ার।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন এক কোটি ৫৭ লাখ এক হাজার ৬০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে সাত কোটি ৮৫ লাখ আট হাজার টাকার শেয়ার।
এদিকে ডিএসইতে সর্বশেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর আট দশমিক ৫১ শতাংশ বা ৪০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ পাঁচ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল পাঁচ টাকা ১০ পয়সা। দিনজুড়ে ৬৩ লাখ ৫১ হাজার ২৭১ শেয়ার মোট এক হাজার ২৮ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর তিন কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন চার টাকা ৮০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর তিন টাকা ৭০ পয়সা থেকে আট টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।
৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এক টাকা এক পয়সা এবং সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ১২ টাকা ৬০ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ৪৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
এর আগে ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাববছরে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৫৯ পয়সা এবং এনএভি দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৭৫ পয়সা। এটি আগের বছরের একই সময় ছিল যথাক্রমে এক টাকা ১৫ পয়সা ও ১৩ টাকা ৩৩ পয়সা।
কোম্পানিটি ২০১২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। কোম্পানির ৫০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৪৯৪ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তাদের মোট ৪৯ কোটি ৪৯ লাখ ৭৪ হাজার ৫৫৬ শেয়ার রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে ১৩ দশমিক ৮২ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের, প্রাতিষ্ঠানিক ২৪ দশমিক ৮০ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৬১ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত পাঁচ দশমিক শূন্য পাঁচ।
তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ২৫ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন এক কোটি ৩৭ লাখ ১৭ হাজার ২০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে হয়েছে ছয় কোটি ৮৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকার শেয়ার।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর এক দশমিক ৫৬ শতাংশ বা ১০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ছয় টাকা ৫০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ছয় টাকা ৫০ পয়সা। দিনজুড়ে ৩৪ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮৭ শেয়ার মোট ৮৪২ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর দুই কোটি ৩৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ছয় টাকা ২০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ সাত টাকায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর চার টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৩০ পয়সায় ওঠানামা করে।
তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ২০ দশমিক ৭০ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন দুই কোটি ৫১ লাখ ২৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকার শেয়ার।
এদিকে গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর দুই দশমিক ৮৫ শতাংশ বা ১০ টাকা ৩০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৩৭১ টাকা ২০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৩৭০ টাকা ৯০ পয়সা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৩৬৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩৭৩ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়। ওইদিন ৯৫ হাজার ৫৪৮ শেয়ার মোট এক হাজার ২২০ বার হাতবদল হয়। যার বাজারদর তিন কোটি ৫৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। গত এক বছরে শেয়ারদর ১২৪ টাকা থেকে ৩৭৩ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।
২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য কোম্পানিটি দুই শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৫৮ পয়সা এবং এনএভি হয়েছে ১৪ টাকা ৯৬ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে এক কোটি এক লাখ ৯০ হাজার টাকা।
এর আগে ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই সময় ইপিএস হয়েছে এক টাকা ছয় পয়সা এবং এনএভি ১৪ টাকা ৯০ পয়সা। তার আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে এক টাকা ৫০ পয়সা ও ১৪ টাকা ৩৬ পয়সা।
কোম্পানিটি ১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে লেনদেন হচ্ছে। ১০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ছয় কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ এক কোটি ৭৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।
কোম্পানিটির মোট ৬৪ লাখ ৬০ হাজার ৬৫০টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের কাছে ২৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক দুই দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ৬৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

সর্বশেষ..