কৃষি কৃষ্টি

বগুড়ায় শীতকালীন আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক

পারভীন লুনা, বগুড়া: বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় শীতকালীন আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

শাকসবজি বাজারে তুলতে পারলে বেশি লাভ হবে, দেরি হলে বেঁচতে হয় পানির দরে। এ কারণে উপজেলার কৃষকরা সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কভিডের প্রভাবে আর বৃষ্টিতে শীতকালীন আগাম সবজি জমি তৈরি করতে চলতি বছর কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে কৃষকদের।

উপজেলার বামুনিয়া, শাহনগর, কামারপাড়া ও আমরুল শাকসবজি চাষের প্রধান অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বেগুন চাষের জন্য দাঁড়িগাছা, মরিচ চাষে গোহাইল ও জামাদার এলাকার সুখ্যাতি রয়েছে। বাজারে আগাম টমেটো আনতে  দুরুলিয়া থেকে খোট্রাপাড়া এলাকার কৃষকরা মাচা তৈরি করে টমেটো চাষ করছেন।

উপজেলার প্রায় সব জায়গায় কমবেশি শীতকালীল সবজি  মুলা, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শীম, লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক ও পেঁয়াজ চাষাবাদ হয়। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ১২৬০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার আড়িয়া ও চোপিনগর ইউনিয়নের কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সবজির চারা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কেউ সবজির চারা জমিতে রোপণ করছেন। আবার কেউ জমি আগাছামুক্ত করতে নিড়ানি দিচ্ছেন।

চোপিনগরের কৃষক এনামুল হকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, এবার ৬০ শতক জমিতে মূলার সঙ্গে লালশাক চাষ করেছি। পুরুষ শ্রমিকের মজুরি বেশি, তাই নারী কৃষক দিয়ে জমিতে আগাছামুক্ত করছেন তিনি।

বামুনিয়া চাঁদ বাড়িয়া গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, ‘এ বছর প্রথমবার ২০ শতক জমিতে আগাম ফুলকপির চাষ করেছি। ইউনাইটেড সিড বীজ কোম্পানি মুক্তা জাতের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করি। ফলন খুব ভালো হয়েছে, চাহিদা বেশি থাকায় জমি থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে পাইকাররা ফুলকপি নিয়ে যাচ্ছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে ৫০ হাজার টাকার মতো লাভ হবে বলে আশা করছি।’

দাঁড়িগাছা এলাকার বেগুন চাষি মতিউর রহমান জানান, ‘এ বছর তিন বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছি। বৃষ্টিতে গাছের বৃদ্ধি কম হলেও, এখন বেগুন গাছগুলো স্বাভাবিক আছে। আবহাওয়া এমন থাকলে আগামী মাসে ভালো ফলন পাওয়া যাবে।’

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম জানান, শীতকালীন সবজির দিকে উপজেলার কৃষকদের বিশেষ নজর থাকে। এ বছর এক হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষাবাদ হচ্ছে। আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নানা রকম সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও বাম্পার ফলনের আশা করছি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..