প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বঙ্গোপসাগরের নতুন সম্ভাবনা সিউইড ও জমে থাকা গ্যাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে ৩৪৭ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের সন্ধান মিলেছে। শুধু সিউইডের (সমুদ্রে জন্মানো গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ) ২৮ হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে। সম্প্রতি সাগরের গভীরে ২৫ সেন্টিমিটার পুরু জমে থাকা গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে।

বঙ্গোপসাগরের সুনীল অর্থনীতির ব্যবহার নিয়ে নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে একটি জরিপ পরিচালনা করা হয়। নেদারল্যান্ডসের এ জরিপ কাজে সহযোগিতা করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিট।

গতকাল গবেষণার বিষয়টি জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিট) রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোহাম্মাদ খুরশেদ আলম।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় গবেষণা সমীক্ষায় উঠে এসেছে, বঙ্গোপসাগরে গ্যাস হাইড্রেট ও সামুদ্রিক জেনেটিক সম্পদ রয়েছে। বাংলাদেশের পুরো এলাকায় জরিপটি চালানো হয়। আমাদের একান্ত অর্থনৈতিক এলাকার (ইই জোন) সার্বিক অবস্থান বিবিধ প্রজাতি চিহ্নিত করাসহ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

সেই ফলের ভিত্তিতে বাংলাদেশে ২২০ প্রজাতির সিউইড (সামুদ্রিক শৈবাল), ৩৪৭ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ৪৯৮ প্রজাতির ঝিনুক, ৫২ প্রজাতির চিংড়ি, পাঁচ প্রজাতির লবস্টার, ছয় প্রজাতির কাঁকড়া, ৬১ প্রজাতির সি-গ্রাস প্রভৃতি চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীকালে এসব প্রজাতির ওপর প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি টেস্ট নেদারল্যান্ডসে সম্পন্ন করা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে ২৮ হাজার কোটি টাকার সিউইড শিল্পের বাজার রয়েছে। এর মধ্যে পোলট্রি শিল্প খাতে ১০ হাজার কোটি ও ফিশ ফিডিং শিল্পে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে। সমুদ্র থেকে সিউইড উৎপাদন করা সম্ভব হলে এই খাতের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের এ খাতে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানান তিনি।

প্রসাধনী (কসমেটিকস) ও পোলট্রি ফিড তৈরিতে প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে কাঁচা পণ্য আমদানি করতে হয়। কিন্তু এসব কাঁচা পণ্য সিউইড থেকেই উৎপাদন করা সম্ভব। এজন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করবে। বিভিন্ন শিল্প উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠান এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে পারে। বর্তমানে সীমিত পরিসরে এসব চাষাবাদ চলছে সেন্টমার্টিন এলাকায়। কেউ এগিয়ে এলে তাকে কারিগরিসহ সব ধরনের সুবিধা দেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে জানানো হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস হাইড্রেট ও মেরিন জেনেটিক রিসোর্সের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ তার মূল ভূখণ্ডে ৮১ শতাংশ পরিমাণ রাষ্ট্রীয় জলসীমা অর্জন করে, অর্থাৎ সমুদ্রে মোট এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা পায় বাংলাদেশ। এই অর্জন দেশের মেরিন ও উপকূলীয় অঞ্চলে সব ধরনের সমুদ্রসম্পদ আহরণ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ, জ্বালানি, পর্যটন প্রভৃতি ঘিরে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনার দ্বার উšে§াচন করেছে। সমীক্ষা থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ৯টি খাতের কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এর মধ্যে রয়েছে সামুদ্রিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক মৎস্যচাষ উন্নয়ন, বাণিজ্যিক নৌ-পরিবহনের উন্নয়ন, সমুদ্রভ্রমণ পর্যটনের বিকাশ সাধন, অফশোর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সুনীল বায়োটেকনোলজি গবেষণা ও উন্নয়ন, জাহাজ নির্মাণ ও রিসাইক্লিং শিল্প সম্প্রসারণ, স্থিতিশীল জীবিকার জন্য ম্যানগ্রোভের বাস্তুসংস্থানগত সেবা, সামুদ্রিক দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ এবং মেরিন স্পেশাল প্ল্যানিং বাস্তবায়ন।