প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

বছরজুড়ে বঙ্গজের শেয়ারদর বৃদ্ধির চমক

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: প্রতিষ্ঠানের মুনাফা নেই। গত বছর লোকসান হয়েছে ২৪ লাখ টাকা। দুবছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে। শেয়ারদর বাড়ার মতো কোনো সংবেদনশীল তথ্যও নেই। কিন্তু এরপরও লাগামহীন বাড়ছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য খাতের কোম্পানি বঙ্গজের শেয়ারদর। শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণ জানে না বলে দাবি করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির জন্য চলতি বছরের বেশিরভাগ সময়ই আলোচনায় ছিল প্রতিষ্ঠানটি।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা আগের চেয়ে মন্দা। এর কর্তৃপক্ষ জানায়, ব্যবসা মন্দা যাওয়ার প্রধান কারণ পণ্য উৎপাদনকারী মেশিন। মেশিন পুরোনো হওয়ায় কমেছে উৎপাদন ক্ষমতা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে যে মেশিন দিয়ে বঙ্গজের উৎপাদন চলছে, তার বয়স ৩৬ বছর। ফলে মেশিনটি আর আগের মতো কাজ করতে পারে না। যার প্রভাব পড়েছে ব্যবসায়।

নতুন মেশিন কেনার জন্য দু’দফায় বিএসইসির কাছে রাইট শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন চেয়েছিল। কিন্তু সে আবেদনে সাড়া দেয়নি বিএসইসি। ফলে কোম্পানিটি এখন নিজের প্রচেষ্টায় সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। সে কারণে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেওয়া হয়নি বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করা হলে সচিব ফিরোজ ইফতেখার প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কমে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের মেশিনটি পুরোনো হয়ে গেছে। যে কারণে কমে গেছে উৎপাদন। ফলে কমে গেছে আমাদের আয়ও। তবে কোম্পানির অবস্থা ভালো হলে আমরা নিশ্চয়ই আবার ‘এ’ ক্যাটেগরিতে ফিরে যাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নতুন মেশিন কেনার জন্য দুবার রাইটের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু একবারও অনুমোদন মেলেনি। যে কারণে নতুন মেশিন কিনতে পারছি না।’

এক বছরের লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, এ সময় লোকসানি প্রতিষ্ঠাটির প্রতিটি শেয়ারের দর বেড়েছে ৪০ শতাংশ। বছরের শুরুতে এই শেয়ারের দর ছিল ১১৮ টাকা। বর্তমানে যা লেনদেন হচ্ছে ১৬৬ টাকায়। এদিকে এক মাসের ব্যবধানে প্রতি শেয়ারে দর বৃদ্ধি পেয়েছে ২১ শতাংশ। বাজারে বঙ্গজ বিস্কুট ও নুডুলসের চাহিদা থাকলেও সে তুলনায় উৎপাদনে ব্যর্থ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে তাদের আয়ও কমে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে পুঁজিবাজারে। ২৯১৪-১৫ অর্থবছরে কোম্পাটি চাহিদার তুলনায় উৎপাদন করে ১৫ লাখ ২১ হাজার কেজি বা ৫১ দশমিক ৬৪ শতাংশ পণ্য। পরের অর্থবছরে তা নেমে আসে ১২ লাখ ৬৪ হাজার কেজি বা ৪২ দশমিক ১৪ শতাংশে। অর্থাৎ এ সময়ের মধ্যে উৎপাদন কমেছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কেজি বা ৯ দশমিক পাঁচ শতাংশ।

উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি ২০১৩ সালে শেয়ারহোল্ডারদের ৭০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদান করে। পরের বছর প্রদান করে ৫০ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৫ সালে ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার প্রদান করে। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৫৭ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে। এছাড়া পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ শেয়ার। বাকি আট দশমিক শূন্য আট শতাংশ রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, কোম্পানিটি হঠাৎ করে ‘এ’ থেকে ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে চলে যাওয়ায় তারা হতাশ। এ প্রসঙ্গে বিনিয়োগকারী শাহাদাত হোসেন ফিরোজ বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর এভাবে ক্যাটেগরি পরিবর্তন হয়ে ‘জেড’-এ চলে এলে সেই শেয়ার নিয়ে আমাদের ভোগান্তি হয়। কারণ জেডে চলে গেলে এই শেয়ারের ক্রেতা কমে যায়। লেনদেন করতেও পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..