প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বছরের শেষ দিনে কভিডে ২৮ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: গতকাল ছিল বছরের শেষ দিন। ২০২০ সালটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে করোনা মহামারির কারণে। করোনার কারণে দুর্বিষহ হয়ে ওঠা বছরটির দিন দেশে কভিড-১৯ রোগে আরও ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ১৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার শনাক্ত এক হাজার ১৪ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ১৩ হাজার ৫১০ জনে। আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ২৮ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট সাত হাজার ৫৫৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক হাজার ৩৮৯ রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে এ পর্যন্ত সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে চার লাখ ৫৭ হাজার ৪৫৯।

গত বছরের শেষ দিনে চীনের উহানে নতুন ধরনের এক নিউমোনিয়া ধরা পড়ে, যার কারণ খুঁজতে গিয়ে নতুন এক করোনাভাইরাস চিহ্নিত করা হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি থাইল্যান্ডে নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। শতাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ সংকটকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে। ওইদিন পর্যন্ত এক লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং চার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে এ রোগে।

তত দিনে নতুন এ করোনাভাইরাস বাংলাদেশেও পৌঁছে যায়। ৮ মার্চ প্রথম তিনজনের শরীরে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানায় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর। শনাক্ত রোগীর সেই সংখ্যা পাঁচ লাখ পেরিয়ে যায় ২০ ডিসেম্বর। এর মধ্যে গত ২ জুলাই চার হাজার ১৯ জন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত।

প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৯ ডিসেম্বর তা সাড়ে সাত হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।

বিশ্বে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এরই মধ্যে আট কোটি ২৭ লাখ পেরিয়েছে; মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ১৮ লাখ ছয় হাজারের ঘরে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ২৭তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ৩৫তম অবস্থানে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মোট ১৮০টি ল্যাবে ১৩ হাজার ২৫৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা করা হয়েছে ৩২ লাখ ২৭ হাজার ৫৯৮টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার সাত দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক শূন্য আট শতাংশ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৭ শতাংশ।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৫ লাখ ৫৭ হাজার ৯৩১টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছে ছয় লাখ ৬৯ হাজার ৬৬৭টি। গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে আছেন ২১ পুরুষ ও সাত নারী। তাদের মধ্যে ২৬ জন হাসপাতালে এবং দুজন বাড়িতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ১৮ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, পাঁচজনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, তিনজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং দুজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ছিল।

মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ২২ জন ঢাকা বিভাগের, তিনজন চট্টগ্রাম বিভাগের এবং একজন করে মোট তিনজন বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া সাত হাজার ৫৫৯ জনের মধ্যে পাঁচ হাজার ৭৫৪ জনই পুরুষ এবং এক হাজার ৮০৫ জন নারী।

তাদের মধ্যে চার হাজার ১২৬ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া এক হাজার ৯১৬ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৮৮৮ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৩৭৮ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১৫৯ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৫৭ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ৩৫ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।

এর মধ্যে চার হাজার ১৫১ জন ঢাকা বিভাগের, এক হাজার ৪১০ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৪৩৩ জন রাজশাহী বিভাগের, ৫৩০ জন খুলনা বিভাগের, ২৩৮ জন বরিশাল বিভাগের, ২৯১ জন সিলেট বিভাগের, ৩৩৯ জন রংপুর বিভাগের এবং ১৬৭ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।