মার্কেটওয়াচ

বছরে দু’তিনটি মানসম্মত কোম্পানি এলে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে

গত ১০ বছরে বাজারে বস্ত্র খাতের অনেক কোম্পানি আনা হয়েছে। কিন্তু এসব কোম্পানির বেশিরভাগই মানসম্মত নয়। তাই বেশি কোম্পানি না এনে বছরে দুই থেকে তিনটি মানসম্মত রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক কোম্পানি এলে বাজার এমনিতেই ঘুরে দাঁড়াবে। তবে আইপিও বন্ধ রাখা বাজারের জন্য ভালো সংকেত নয়। কিন্তু বেশি আইপিও অনুমোদন দেওয়ারও দরকার নেই। আগে বাজারকে টেকসই করতে হবে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।

হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এএফপির ব্যুরো চিফ মো. শফিকুল আলম এবং কন্সটেলেশন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ বিপ্লব।

মো. শফিকুল আলম বলেন, গত ১০ বছরে পুঁজিবাজারে কোনো কোনো জায়গায় বেশি সমস্যা দেখা গিয়েছে। বিশ্লেষকরা বারবার বলে আসছেন এসব জায়গায় সুষ্ঠু তদন্ত করা দরকার। তবে গত ১০ বছরে বেশি সমস্যা তৈরি হয়েছে নি¤œমানের কোম্পানি আনায়। কারণ এসব কোম্পানির প্রথমদিকে ভালো পারফরম্যান্স দেখা গেলেও পরবর্তীতে সে পারফরম্যান্স আর ধরে রাখতে পারেনি। ফলে ওইসব কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা লোকসান গুনছেন। এসব কোম্পানি বাজারে আনার ক্ষেত্রে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা এর দায় এড়াতে পারে না। তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। শুধু বিনিয়োগকারীদের দোষারোপ করলে হবে না। তিনি আরও বলেন, বাজার ভালো করতে হলে বিনিয়োগকারী বাড়াতে হবে। আর বিনিয়োগকারী বাড়াতে হলে বাজারকে গতিশীল রাখতে হবে। আবার ব্যাংকে ডিপোজিটে ১০ থেকে ১১ শতাংশ প্রফিট দেওয়া হতো। এখন তা ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসবে বলে শোনা যাচ্ছে। বাজারকে গতিশীল রাখার এখনই সময়। বিনিয়োগের উপযুক্ত সময় এটাই। যদি বাজারকে গতিশীল রাখা যায় তাহলে বিনিয়োগকারীরা আসবেন। এ পর্যন্ত বছরে বাজারে যা হয়েছে তার জন্য বিএসইসিকে জবাবদিহি করতে হবে। বর্তমানে বাজারের যে অবস্থা এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে নতুন নেতৃত্ব দরকার। যারা বাজারকে নতুন করে দেখভাল করবেন। কারণ দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু বাজারে তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।

হাসান মাহমুদ বিপ্লব বলেন, গত ১০ বছরে বাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বেশি আনা হয়েছে। কিন্তু এসব কোম্পানির বেশিরভাগই মানসম্মত নয়। তাই বেশি কোম্পানি না এনে বছরে দুই থেকে তিনটি মানসম্মত রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক কোম্পানি এলে বাজার এমনিতেই ঘুরে দাঁড়াবে। বাজারে অনেক কোম্পানি এনে তার মধ্যে যদি ১০টিও ভালো না হয়, তাহলে বাজার কীভাবে ভালো হবে? আসলে এখানে সবসময় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারী। তিনি আরও বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ হচ্ছে বিনিয়োগকারীর অর্থ নিরাপদ রাখা এবং বাজারে যাতে কোনো কারসাজি না হয় সেটা নিয়ন্ত্রণ করা। তবে আইপিও বন্ধ রাখা বাজারের জন্য ভালো সংকেত নয়। কিন্তু বেশি আইপিও অনুমোদন দেওয়ারও দরকার নেই। আগে বাজারকে টেকসই করতে হবে। তাই বেশি আইপিও অনুমোদন না দিয়ে বছরে মানসম্মত চার থেকে পাঁচটি কোম্পানি অনুমোদন দিলেই হবে। আবার কোনো কারণ ছাড়াই ভালো কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। কিন্ত ওইসব কোম্পানির কোনো ক্ষতি হয়নি এবং ইপিএসও ভালো। যখনই বাজারে আস্থা আসবে তখনই বাজারে ভালো একটি সূচক উপহার পাওয়া যাবে। আর এ আস্থা অর্জন করতে হবে সরকারকেই। এখানে সরকারের বেশি দায়িত্ব রয়েছে। এখানে প্রধানমন্ত্রী যেমন হস্তক্ষেপ করেছেন তেমনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। কারণ অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত পুঁজিবাজার।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..