বিশ্ব সংবাদ

বছরে শতকোটির বেশি ভ্যাকসিন ডোজ উৎপাদন করবে চীন

টিকার জরুরি ব্যবহারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমর্থন

শেয়ার বিজ ডেস্ক : জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষামূলক করোনার টিকা ব্যবহারের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিইএইচও) সমর্থন পেয়েছে চীন। গতকাল শুক্রবার দেশটির ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, করোনার টিকার জরুরি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিতর্ক থাকলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে তারা বোঝাতে পেরেছেন এবং সমর্থনও পেয়েছেন। এদিকে আগামী বছর নাগাদ চীনের কভিড-১৯ ভ্যাকসিন উৎপাদন সক্ষমতা বার্ষিক ১০০ কোটি ডোজ ছাড়িয়ে যাবে। দেশটির সরকার কভিড-১৯ প্রতিষেধক উৎপাদনে নতুন কারখানা নির্মাণ ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমেই টিকা উৎপাদানে গতি অর্জন করবে চীন। খবর: এপি।

গত জুলাই মাস থেকে জরুরি ব্যবহার কর্মসূচির আওতায় শত শত মানুষকে টিকা দিচ্ছে চীন। দেশটির সরকার এতে অনুমোদন দিয়েছে। তবে এ টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা এখনও পুরোপুরি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রমাণিত হয়নি। পশ্চিমা কিছু বিশেষজ্ঞ ও টিকা প্রস্তুতকারক করোনার টিকার সম্পূর্ণ পরীক্ষা না করে অনুমোদনের বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

দেশটির ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের কর্মকর্তা ঝেং ঝংওয়ে শুক্রবার বলেছেন, চীনের মন্ত্রিসভা ও রাজ্য কাউন্সিল জুনের শেষে কভিড-১৯ টিকার জরুরি ব্যবহারের জন্য একটি পরীক্ষামূলক পরিকল্পনা অনুমোদন করে। অনুমোদনের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চীনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর তাদের কাছ থেকে বোঝাপড়া ও সমর্থন পাওয়া যায়।

এসময় তিনি জানান, চলতি বছরের শেষ দিকে চীনের ভ্যাকসিন উৎপাদন সক্ষমতা ৬১ কোটি ডোজ হবে। কিন্তু সরকার তা নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। দ্রুতগতিতে উৎপাদন আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, আগামী বছর আমাদের টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা বার্ষিক শতকোটি ডোজ ছাড়িয়ে যাবে।

অবশ্য এ পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতার নতুন ক্ষেত্র কি না, সে বিষয়ে কিছু বলেননি ঝংওয়ে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই ফার্মা জায়ান্ট ফাইজার ও মডার্না ইঙ্ক উভয়েই ২০২১ সাল নাগাদ ১০০ কোটি ডোজ উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছিল।

তবে ঝংওয়ে বলেছেন, উৎপাদন যে পরিমাণেই হোক সবার আগে স্বাস্থ্যকর্মী, সীমান্তরক্ষী ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা পাবেন। তারপর তা সর্বসাধারণের মধ্যে দেওয়া হবে। চীন সরকার শুরু থেকেই টিকা পরীক্ষায় উন্নত গবেষণাগার এবং তা উৎপাদনে বৃহৎ কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করেছে। অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বতন্ত্র একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বর্তমানে প্রায় ১১টির বেশি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালাচ্ছে চীন। এদের মধ্যে চারটি আছে পরীক্ষার সর্বশেষ ধাপ বা তৃতীয় পর্যায়ে।   

গবেষণাধীন এসব টিকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দেশটির বেসরকারি কোম্পানি সিনোভ্যাকের তৈরি করোনাভ্যাক টিকা। রাজধানী বেইজিংয়ে স্থাপিত একটি সুরক্ষিত কারাখানায় এটি উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সিনোভ্যাকের চেয়ারম্যান ইন ওয়েইডং বলেছিলেন, মাত্র কয়েক মাসেই নতুন এ কারখানা স্থাপন করা হয় এবং আগামীতে চাহিদার বিবেচনায় আরও কারখানা স্থাপন করা হবে।

কিছু দেশ এরই মধ্যে টিকা গবেষণা ও উৎপাদনের গতি বাড়িয়েছে, যার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ১৫০টি দেশ যোগ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) টিকা জোট- কোভাক্সে।  জোটটি বছরে ২০০ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদন করে প্রথম বছরেই অন্তত বিশ্বের ২০ শতাংশ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে এর আওতায় আনতে চায়। এ চাহিদা একটি অপার বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও সৃষ্টি করেছে ফার্মা জায়ান্টদের জন্য।

ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচারক তেদ্রোস আধানম গেব্রেইসাস চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিলেন, ‘কোভাক্স জোটের মূল লক্ষ্য কিছু দেশের সব মানুষের চেয়ে সব দেশের কিছু মানুষ যাতে টিকা পায়, তা সুনিশ্চিত করা।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..