প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বছরে ৪৩ হাজার ২০০ টন উৎপাদন বাড়াবে আমান ফিড

নিজস্ব প্রতিবেদক: তালিকাভুক্ত কোম্পানি আমান ফিডের পরিচালনা পর্ষদ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য কোম্পানিটি নতুন মেশিনারিজ স্থাপন করবে। এর ফলে বিদ্যমান উৎপাদন ক্ষমতা থেকে বছরে প্রায় ৪৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন উৎপাদন বাড়াতে চায়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, কোম্পানিটি বিদ্যমান উৎপাদন ক্ষমতা থেকে বছরে প্রায় ৪৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন উৎপাদন বাড়াতে চায়। কোম্পানিটি আশা করছে, উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ার কারণে বছরে প্রায় ১৮৩ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি বাড়বে। উৎপাদন বাড়লে বছরে আমান ফিডের নিট মুনাফা বাড়বে ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার।

উল্লেখ্য, ‘এ’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানি ২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে চার টাকা ৪৮ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ১৮ পয়সা।

২০১৫ সালে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ ও ২০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। ওই সময় ইপিএস ছিল পাঁচ টাকা সাত পয়সা এবং এনএভি ছিল ৩৫ টাকা ৯০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল যথাক্রমে চার টাকা ৯৭ পয়সা ও ৩০ টাকা ৭৭ পয়সা।

ওই সময় কোম্পানিটি কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল ৩০ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যা আগের বছর ছিল ২৯ কোটি ৮১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

গতকাল কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার পাঁচ দশমিক ৯৬ শতাংশ বা চার টাকা ১০ পয়সা বেড়ে সর্বশেষ ৭২ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৭২ টাকা ৬০ পয়সা।

দিনজুড়ে কোম্পানিটির ১১ লাখ ১৪ হাজার ৮৯০টি শেয়ার মোট এক হাজার ৬৯৫ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর সাত কোটি ৯৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা। শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৬৯ টাকা ৩০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৭২ টাকা ৯০ পয়সায়  ওঠানামা করে। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ৪২ টাকা থেকে ৯১ টাকা ১০ পয়সায় ওঠানামা করে।

সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারমূল্য আয় (পিই) অনুপাতে ১৬ দশমিক ২১ শতাংশ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ১২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ১৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১০৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ১৭০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৪১ পয়সা। এটি আগের বছরের একই সময় ছিল এক টাকা চার পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস বেড়েছে ৩৭ পয়সা।

চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এনএভি দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ৬০ পয়সা, যা একই বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় ছিল ৩৪ টাকা ১৮ পয়সা। অর্থাৎ এনএভি বেড়েছে এক টাকা ৪২ পয়সা। কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ১৩ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটির মোট ১০ কোটি ৫৬ লাখ শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৭০ দশমিক ৬০ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ১৪ দশমিক ৬২ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে শূন্য দশমিক শূন্য সাত শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।