বিশ্ব সংবাদ

বছর শেষে ২৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে লুফথানসা

শেয়ার বিজ ডেস্ক : করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে উড়োজাহাজ খাত। সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং লকডাউনের কারণে বিশ্বের বড় সব উড়োজাহাজ সংস্থার উড়ান প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। জার্মানির লুফথানসাও তার মধ্যে একটি। প্রতিষ্ঠানটি লোকসান এড়াতে চলতি বছরের শেষের দিকে ২৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে যাচ্ছে। এছাড়া আগামী বছর আরও দেশের অভ্যন্তরে আরও ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে প্রতিষ্ঠানটি। খবর: রয়টার্স।

২০২৫ সালের আগে আকাশ পথে ভ্রমণ করোনা মহামারির আগের অবস্থানে ফিরে আসবে না। এ জন্য লুফথানসা এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইইউরোউইংস, সুইস, অস্ট্রিয়ান ও ব্রাসেলস এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট সময়সূচি, উড়ান ও কর্মী সংখ্যা কমিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সূত্রের বরাতে স্থানীয় একটি প্রত্রিকা বলেছে, জার্মানির বাইরে লুফথানসা ২০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ক্যাটারিং ইউনিট এলএসজি বিক্রি করে দিচ্ছে লুফথানসা। এতে সাত হাজার কর্মী কমে কর্মী সংখ্যা দাঁড়াবে এক লাখ ৯ হাজার। এদিকে আগামী বছর জার্মানিতে আরও ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে প্রতিষ্ঠানটি।

করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত খাতের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এয়ারলাইনস। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সরকার এ খাতের কোম্পানিগুলোকে বাঁচাতে ১৬০ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা দিয়েছে। তবে প্রায় ৪০টির মতো কোম্পানি খুবই করুণ অবস্থায় রয়েছে। তারা দেওলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিভিন্ন দেশ বিধিনিষেধ বাড়াচ্ছে। এতে এয়ারলাইনসগুলো বড় ধরনের ধাক্কা খেতে যাচ্ছে। বৈশ্বিক এয়ারলাইনসগুলোর জোট ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফায় করোনার ধাক্কা সামলাতে সাত থেকে আট হাজার ডলার সহায়তা প্রয়োজন। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে বেশিরভাগ এয়ারলাইনসের প্রায় সব উড়োজাহাজই গ্রাউন্ড করা ছিল। এতে বড় লোকসানে পড়ে যায় প্রতিষ্ঠানগুলো। বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের কোম্পানিগুলোকে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে সহায়তা করেছে। সম্প্রতি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে শুরু করে বিভিন্ন দেশ। কিন্তু এর মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় আবারও করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। এতে ইউরোপ আমেরিকাসহ বেশকিছু দেশ আবারও বিধিনিষেধ কঠোর করছে। তাই এয়ারলাইনসগুলোর মাথায় চিন্তার ভাঁজ।

আইএটিএ আশঙ্কা করছে, ২০২০ সালে সব মিলিয়ে এয়ারলাইনসের চলাচল কমবে ৬৬ শতাংশ। ২০২৪ সালের আগে উড়োজাহাজ চলাচল ২০১৯ সালের আগে অবস্থায় ফিরে আসবে না বলে মনে করছে এ সংগঠটির নেতারা। চলতি বছর এয়ারলাইনসগুলোর মোট আয় হবে ৪১৯ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি অর্ধেকেরও কম।

ডি জোনিয়াক মনে করছেন, এয়ারলাইনসগুলো এ বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার লোকসানে থাকবে। এর আগের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল লোকসান হবে ৮৭ বিলিয়ন ডলার।

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী পর্যটন খাতে ধস নেমেছে। এতে এয়ারলাইনসগুলোর ব্যবসায় বড় প্রভাব পড়ছে। ব্রিটেনভিত্তিক উড়োজাহাজ সংস্থা ইজি জেট ২৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এ বছর লোকসান গুনছে। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির আয় অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির এক দশমিক ২৭ বিলিয়ন পাউন্ড লোকসান হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..