দিনের খবর প্রথম পাতা

বজ্রপাতে আড়াই বছরে ৫৪৬ জনের মৃত্যু

মৃত্যুর শীর্ষে হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ

হামিদুর রহমান: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। গত দুই বছরে বজ্রপাতে সারাদেশে মৃত্যু হয়েছে ৫৪৬ জনের এবং আহত হয়েছেন ৭৬ জন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৯ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতে মারা গেছেন প্রায় ১৯৮ জন ও আহত হয়েছেন ২৭ জন। ২০২০ সালে সারাদেশে বজ্রপাতে মারা গেছেন ২২৪ জন, আর আহত হয়েছেন ৩২ জন। এছাড়া চলতি বছর ৮ জুন পর্যন্ত বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১২৪ জনের এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১৭ জন। আর সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে।

২০১৯ সালে বজ্রপাতে কক্সবাজারে চারজনের, কিশোরগঞ্জে ১৬ জনের ও কুমিল্লায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং খুলনা, জয়পুরহাট, ঝালকাঠি, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, বরগুনা, পিরোজপুর, ফেনী, ভোলা, শেরপুর, মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে একজন করে মারা যান। এছাড়া গাজীপুর, জামালপুর, চট্টগ্রাম, নওগাঁ, পঞ্চগড়, বান্দরবান, কুড়িগ্রাম ও খাগড়াছড়িতে দুজন করে মারা যান।

একই বছর গাইবান্ধা, চাঁদপুর, নড়াইল, নাটোর, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, যশোর ও সিরাজগঞ্জে তিনজন করে মারা যান। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝিনাইদহ, দিনাজপুর, বাগেরহাট, ফরিদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মাগুরা ও রংপুরে চারজন করে মারা যান। টাঙ্গাইল, নীলফামারী ও সিলেটে পাঁচজন করে মারা যান। এছাড়া নেত্রকোনায় বজ্রপাতে আটজন, পাবনায় ১৫ জন, রাজবাড়ীতে সাতজন, সাতক্ষীরায় ১০ জন, সুনামগঞ্জে ৯ জন ও হবিগঞ্জে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ওই সময় বজ্রপাতে আহত হন ২৭ জন। তাদের মধ্যে আছেন কক্সবাজারের একজন, কিশোরগঞ্জের একজন, খাগড়াছড়ির তিনজন, দিনাজপুরের তিনজন, মৌলভীবাজারের দুজন, যশোরের দুজন, রংপুরের পাঁচজন, রাজশাহীর ছয়জন ও হবিগঞ্জের চারজন।

এদিকে ২০২০ সালে সারাদেশে বজ্রমৃত্যু হয়েছে ২২৪ জনের এবং আহত হয়েছেন ৩২ জন। তাদের মধ্যে নড়াইল, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, দিনাজপুর, চাঁদপুর, খুলনা, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, কুড়িগ্রাম ও জামালপুরে একজন করে মারা যান। নাটোর, নেত্রকোনা, নরসিংদী, কুমিল্লা, মাগুরা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, নীলফামারী, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর ও মানিকগঞ্জে দুজন করে মারা গেছেন। মাদারীপুর, ভোলা ও খাগড়াছড়িতে তিনজন করে মারা গেছে। কক্সবাজার, সিলেট, বরগুনা, নোয়াখালী, শরীয়তপুর, বাগেরহাট ও জয়পুরহাটে চারজন করে মারা গেছেন। এদিকে ফরিদপুরে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। আর পটুয়াখালীতে ছয়জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছয়জন, সুনামগঞ্জে আটজন, হবিগঞ্জে ১১ জন, মৌলভীবাজারে সাতজন, ময়মনসিংহে ৯ জন, নওগাঁয় সাতজন, শেরপুরে আটজন, গাইবান্ধায় ১১ জন, সিরাজগঞ্জে পাঁচজন, লক্ষ্মীপুরে পাঁচজন, পঞ্চগড়ে পাঁচজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিনজন, পাবনায় ৯ জন, কিশোরগঞ্জে পাঁচজন, রংপুরে আটজন, বগুড়ায় ১০ জন, কুষ্টিয়ায় সাতজন, টাঙ্গাইলে পাঁচজন, ফেনীতে পাঁচজন ও লালমনিরহাটে আটজন বজ্রপাতে মারা গেছেন।

ওই সময়ে আহত হয়েছেন ৩২ জন। কক্সবাজার, পটুয়াখালি, সুনামগঞ্জ, বরগুনা, নওগাঁ, নরসিংদী ও কুষ্টিয়ায় একজন করে আহত হয়েছেন। এছাড়া হবিগঞ্জে পাঁচজন, মৌলভীবাজারে চারজন, সিরাজগঞ্জে দুজন, যশোরে চারজন, মাগুরায় দুজন, মানিকগঞ্জে তিনজন ও লালমনিরহাটে পাঁচজন আহত হন।

এদিকে চলতি বছর ৮ জুন পর্যন্ত সারাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ১২৪ জনের এবং আহত হয়েছে ১৭ জন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসে সিসার পরিমাণ বৃদ্ধি ও আবহাওয়ার পরিবর্তন, ধাতব পদার্থ ব্যবহারের আধিক্য, নদী শুকিয়ে যাওয়াসহ মোবাইল ফোনের টাওয়ার বৃদ্ধি (তরঙ্গের ব্যবহার বৃদ্ধি), বনভূমি উজাড় ও উঁচু গাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে হ্রাস পাওয়া, জলাভূমি ভরাট প্রভৃতি বজ পাত বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আতিক রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ, নৌকা ও পথঘাটে যারা চলাচল করে তারাই এর শিকার। বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে বজ্রপাতের ঘটনা প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। মূলত জলবায়ু বৃদ্ধির কারণে এই দুর্যোগ বেড়েছে। মোবাইল টাওয়ার বৃদ্ধি পাওয়া, উঁচু গাছ কমে যাওয়া বিশেষ করে হাওরে তালগাছ ও খেজুরগাছ কমে যাওয়াসহ কয়েকটি কারণে বজ পাত বেড়েছে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..