দিনের খবর প্রথম পাতা

বড় উত্থানেও মিলছে না স্বস্তি

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: টানা পতনের রেশ কাটিয়ে সম্প্রতি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে পুঁজিবাজার। গত সপ্তাহের শেষ দুদিন সূচকসহ বেড়েছে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানি ও ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিটের দর। প্রথম দিন ৬৭ পয়েন্ট সূচক বৃদ্ধির পর বৃহস্পতিবার তা বাড়তে দেখা যায় ৩০ পয়েন্ট। তবে এমন বড় উত্থানেও স্বস্তিতে নেই বিনিয়োগকারীরা। ব্রোকারেজ হাউসে ফিরলেও তারা বাজারের ধারাবাহিকতা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন।

তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হবেÑএমন প্রত্যাশা নিয়ে ফিরে এসেছিলেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু বাজারে ফিরে কিছুদিন পরেই তাদের লোকসান শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বাজারে দেখা যাচ্ছে টানা পতন। এর মধ্যে দুই-একদিন বড় উত্থান হলেও তাতে স্বস্তি মিলছে না।

পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্প্রতি লেনদেন কিছুটা সন্তোষজনক হলেও এটা কৃত্রিম কি না, এই বিষয়টি তাদের ভাবাচ্ছে। ফলে নতুন বিনিয়োগ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন তারা। ভুক্তভোগীরা বলেন, হঠাৎ আলোর ঝিলিক নয় আমরা পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা দেখতে চাই, সাম্প্রতিক বাজারচিত্রে যা একেবারেই নেই বললেই চলে।

লেনদেন চিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তিন কার্যদিবস আগে ডিএসইর প্রধান সূচকের অবস্থান ছিল ৫ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে। বৃহস্পতিবার স্থির হয়েছে ৫ হাজার ৪১৬ পয়েন্টে। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে সূচক বেড়েছে ৯৯ পয়েন্ট।

এদিকে বড় পতন থামার পর বদলে গেছে ব্রোকারেজ হাউসের চিত্র।

 কয়েকদিন আগের হাউসগুলোতে উপস্থিতি কমে যায়। তবে গত দুদিন হাউসগুলোতে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি কিছুটা বেড়েছে। মূলত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হয়েছে বলে বাজারের চেহারা বদলে গেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবারও মতিঝিলের ব্রোকারেজ হাউসগুলোয় বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি ছিল ভালো। কিছুদিন আগে বেশিরভাগ হাউসে এমনটি দেখা যেত না। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরে আসায় তারাও পুঁজিবাজারমুখী হচ্ছেন। তবে এটা দীর্ঘমেয়াদি হবে কি নাÑতা নিয়ে দোলাচলে রয়েছেন তারা।

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, পুঁজিবাজারে ফিরলেও তাদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছে। তারা জানান, পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ালেও তা স্থিতিশীল হবে কি নাÑএ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে। তারা একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার চান।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক দিন থেকে বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি কম। এখন পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হচ্ছেন। তারা সক্রিয় থাকলে বাজার আরও ভালো হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হলে তা সার্বিক বাজারের জন্য ভালো। কারণ বাজারে তাদেরই বিনিয়োগ বেশি থাকে। যে কারণে তাদের শেয়ার কেনাবেচাতে বাজারচিত্রের পরিবর্তন হয়। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজারে সক্রিয় থাকলে সাধারণ বিনিয়োগকরীরাও বাজারের প্রতি আগ্রহী হন।

একই বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, বিনিয়োগকারীরা লেনদেন না করলে আমাদের ব্যবসা চালিয়ে নিতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়। সে সময় আমরা বাধ্য হয়েই কর্মী ছাঁটাই করি।

তিনি বলেন, এক সময় আমাদের হাউসে লেনদেন হতো ১০০ কোটি টাকা। পরে তা অস্বাভাবিক হারে কমে যায়। সম্প্রতি বাজার ভালো হলে আমাদের হাউসগুলোর গড় লেনদেনও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু লেনদেন হাজার কোটি টাকার নিচে নেমে যাওয়ায় আমরা আবারও শঙ্কিত হয়ে পড়ছি। তবে এর জন্য দরকার ধারাবাহিক স্থিতিশীলতা। আশা করছি, আমাদেরও সুদিন ফিরে আসবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..