নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার বড় উত্থানে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)—উভয় বাজারেই সূচকের উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতির মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। একইসঙ্গে আগের দিনের তুলনায় টাকার অঙ্কে লেনদেনও কিছুটা বেড়েছে।
এর আগে রোববার (১ মার্চ) ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবরে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। তবে একদিনের ব্যবধানে বিনিয়োগকারীদের আস্থার আংশিক প্রত্যাবর্তনে সোমবার বাজারে ইতিবাচক ধারা ফিরে আসে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে লেনদেনের শুরুতে সূচক বাড়লেও শেষদিকে তা নিম্নমুখী হয়ে পড়ছিল। কিন্তু সোমবার সকাল থেকেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন শুরু হয় এবং দিনশেষ পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। ফলে দিনভর লেনদেনে ইতিবাচক মনোভাব বজায় ছিল।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭২ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৩৪ দশমিক ০৪ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ১০ দশমিক ০৬ পয়েন্ট, অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৯ দশমিক ৭১ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ১৮ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৩৫ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে।
ডিএসইতে এদিন মোট ৩৯৪টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৪০টির, কমেছে ৪২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১২টির। সব মিলিয়ে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৭৭৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
অন্যদিকে সিএসইতে সিএসসিএক্স সূচক ৭৬ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৪৯৮ দশমিক ৬১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৪৮ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট, দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৫০০ দশমিক ০৪ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ৫ দশমিক ০৭ পয়েন্ট বেড়ে ৯২৭ দশমিক ২৭ পয়েন্টে এবং সিএসই-৩০ সূচক ৪১ দশমিক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৩ হাজার ৯৪৯ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
সিএসইতে মোট ১৯৭টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৯টির দাম বেড়েছে, ৪৪টির কমেছে এবং ১৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিন সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একদিনের বড় পতনের পর বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে বিনিয়োগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post