প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বড় উত্থানে ভ্রমণ, আগ্রহ নেই পাট খাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে সূচক বাড়লেও লেনদেন পতনের মাধ্যমে গত সপ্তাহ পার হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনে উত্থান হয়েছিল। গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটদর অপরিবর্তিত ছিল। গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে থাকা ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে বড় উত্থান হয়েছে। ফলে আলোচ্য খাতে শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এর বিপরীতে পাট খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ না থাকায় সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে। ফলে আলোচ্য খাতে শেয়ারদর বেশি কমেছে। দর বৃদ্ধির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিমা খাতের শেয়ার। তৃতীয় স্থানে রয়েছে সেবা ও আবাসন খাতের শেয়ার।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে আগ্রহ বেশি থাকা ভ্রমণ খাতের শেয়ারদর বেড়েছে ১৬ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বা ১৮৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিমা গত সপ্তাহে দর বেড়েছে ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ খাতে গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বা ৭৭৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। খাতটি লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে। এরপর তৃতীয় স্থানে থাকা সেবা খাতে গত সপ্তাহে দর বেড়েছে ৪ দশমিক ১০ শতাংশ।  এ খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ বা ১১৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এছাড়া টেলিকমিউনিকেশন এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতের শেয়ারদর কমা বা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে গত সপ্তাহে শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি কমেছে পাট খাতে। এ খাতে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ শেয়ারদর কমেছে। খাতটিতে গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ বা ৩০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। ১ দশমিক ৪০ শতাংশ শেয়ারদর কমে সিমেন্ট খাত দ্বিতীয় স্থানে ছিল। খাতটিতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১ দশমিক ৪০ শতাংশ বা ৪৩ কোটি টাকা।

অপরদিকে গত সপ্তাহে লেনদেনের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইটি খাত। খাতটিতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ বা ৫৪৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। কিন্তু খাতটিতে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ শেয়ারদর কমেছে। এরপর তৃতীয় স্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ বা ২৮৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। কিন্তু এ খাতে শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে তিন হাজার ৫০ কোটি ১৯ লাখ ৪৭ হাজার ৬১৫ টাকার শেয়ার। আগের সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল তিন হাজার ৮৫০ কোটি ৫২ লাখ ১১ হাজার টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে ৮০০ কোটি ৩২ লাখ ৬৩ হাজার টাকার বা ২০ দশমিক ৭৮ শতাংশ লেনদেন কমেছে।

ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহের ব্যবধানে ৩০ দশমিক ৮১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ২৯৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আলোচিত সপ্তাহে বাজার মূলধনে শীর্ষ ৩০ কোম্পানির মূল্যসূচক ডিএস৩০ আগের সপ্তাহের চেয়ে ২২ দশমিক ০৯ পয়েন্ট বা এক শতাংশ বেড়ে দুই হাজার ২৩০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্যদিকে ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ৬ দশমিক ৮১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে ৪০০ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট কেনাবেচা হয়। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৩টির, কমেছে ১১৯টির। আর ২০৫টির দাম ছিল অপরিবর্তিত।