বিশ্ব বাণিজ্য

বড় ধরনের সংকোচন শঙ্কায় চীনের অর্থনীতি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: করোনাভাইরাসের কারণে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের সংকোচনের মুখে পড়তে পারে চীনের অর্থনীতি। সেটি হলে তা হবে সত্তরের দশকের পর প্রথমবারের মতো সংকোচনের ঘটনা। দেশটির অর্থনীতির অধিকাংশ সূচক ফেব্রুয়ারিতে নিন্মমুখী থাকার পর এ আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। ভাইরাসটির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও তাদের কারখানা চালু করতে পারেনি। খবর: সিএনএন।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের ক্রয় পরিচালন সূচক আগের মাসের ৫১ দশমিক আট থেকে কমে গত মাসে ২৬ দশমিক পাঁচ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ২০০৫ সালে সূচনা হওয়ার পর এটি সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান। সূচকটি ৫০ পয়েন্টের নিচে থাকলে তাকে প্রবৃদ্ধি নয়, বরং সংকোচন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সোসাইটে জেনারেলের কৌঁসুলি কিট জিউকস বলেছেন, চীনের অর্থনীতি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে খারাপ পথে চলেছে। প্রকাশিত তথ্যটি দেশটির সেবা খাতের সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলোর পরিস্থিতির আলোকে সামনে এসেছে। সে অনুযায়ী, চীনের কারখানাগুলো সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে সবচেয়ে খারাপ সময় পার করেছে।

এএনজেডের বৃহত্তর চীনবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ রেমন্ড ইয়ুং বলেন, ভাইরাসটির সংক্রমণ সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, সবকিছু অবরুদ্ধ করে দেওয়া ভাইরাস ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর পন্থা। অন্যদিকে এ ধরনের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রতিবন্ধক।

চীনে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা একটি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে চীনে তারা ২৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার রাজস্ব হারিয়েছে। এছাড়া আইফোন তৈরিকারক ফক্সকন জানিয়েছে, আগামী মার্চের আগে উৎপাদনে ফেরার ব্যাপারে তারা আশাবাদী হতে পারছে না।

এ প্রান্তিকে চলমান চার শতাংশেরও নিচে প্রবৃদ্ধি হতে পারে দেশটির অর্থনীতির। ১৯৭৬ সালে চীনের অর্থনীতি এক দশমিক ছয় শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। তখন কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মাও শে তুংয়ের মৃত্যুতে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা চলে দেশটিতে। এর পর থেকেই চীনের অর্থনীতি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ১৯৭৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চীনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ৯ দশমিক চার শতাংশ। এ সময়ে বড় ধরনের অনেক অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম চালায় চীন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..