সম্পাদকীয়

বড় মিলারদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হোক চালের বাজার

নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ বা কারসাজির ঘটনার সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংশ্লিষ্টতা মাঝে মাঝে জানা যায়। তাই পেঁয়াজের মতো প্রধান খাদ্যপণ্য চালের বাজারের অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা অমূলক নয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সদ্য গবেষণালব্ধ তথ্য প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। গতকাল অনুষ্ঠিত তাদের বার্ষিক সম্মেলনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশের চালের বাজারের ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে বড় ৫০ অটোরাইস মিল। তাছাড়া চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সক্ষমতা রাখে বড় বড় কৃষক, আড়তদার, ফড়িয়া ও কমিশন এজেন্ট। তাদের এই সক্ষমতা যেন কোনোভাবেই নেতিবাচক কাজে ব্যবহার করা না হয়, সেদিকে সরকার যথাযথ নজরদারি করতে পারে। তাছাড়া সরকারের চলমান ধান কেনা কার্যক্রম এবং মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ওএমএস কর্মসূচি সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি।   

বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি থাকার সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজির কথা বিভিন্ন মাধ্যমে চাউর হয়েছিল। প্রশাসন কয়েকজনকে শনাক্তও করতে পেরেছিল। কিন্তু বাজার পরিস্থিতি একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পেঁয়াজের বাজার কোনোভাবেই সহনীয় করা যাচ্ছে না। এই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে সরকারের চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আগাম উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি।

বর্তমানে একটি বড় অটোরাইস মিলের গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে দেড় হাজার টন চাল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এই মিলগুলো যে বাজারে প্রভাব বিস্তার করছে, এমন কোনো তথ্য কিংবা সন্দেহ কোনো মহল থেকে ওঠেনি। কিন্তু ১২ শতাংশ মিলার তাদের সক্ষমতার চেয়ে অনেক বড় মাপের গুদাম কেন তৈরি করেছে, সে বিষয়ে বিআইডিএসের গবেষণায় প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান সক্ষমতার চেয়ে বড় গুদাম-অবকাঠামো নির্মাণ করতে একটি সম্ভাবনাময় ও সম্প্রসারণশীল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কোনো বাধা আছে বলে মনে হয় না। সেটা নিয়ে ভুল ধারণা বা আগেই কোনো সন্দেহ সৃষ্টি ব্যবসা কার্যক্রমকে ক্ষতি করতে পারে। এমনকি গুজব সৃষ্টিরও সূত্র হতে পারে। তবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত তদারকি চললে আগে থেকে এমন আশঙ্কার প্রয়োজন পড়ে না। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সারা দেশ থেকে এর উৎপাদন, চাহিদা ও আমদানি-বিষয়ক সঠিক ও পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন রয়েছে। কিছু বিশেষ জাতের ধান বিশেষ অঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট সময়ে কাটা হয়। উপযুক্ত তথ্য থাকলে এই ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হতে পারে। তাছাড়া কখনও কখনও আন্তর্জাতিক ধান বাজারের ওপর চালের দাম ও সরবরাহ নির্ভর করে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই সজাগ থাকতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..