বিশ্ব বাণিজ্য

বড় লোকসানের আশঙ্কা এয়ারলাইনসগুলোর

শেয়ার বিজ ডেস্ক : করোনাভাইরাসের কারণে বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে বিশ্বের অনেক এয়ারলাইনস। অনেক রুটে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করায় চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া আতঙ্কের কারণে যাত্রীসংখ্যা কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এর প্রভাব পড়েছে এয়ারলাইনসগুলোর ওপর। হংকংভিত্তিক ক্যাথে প্যাসিফিক পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে তাদের ব্যাপক লোকসান হবে। কোরিয়ান এয়ারের টিকে থাকাই অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা অন্য এয়ারলাইনসগুলোর। খবর : বিবিসি ও রয়টার্স।

ক্যাথে প্যাসিফিকের চেয়ারম্যান প্যাট্রিক হ্যালি বলেছেন, চলতি বছর আর্থিক দিক দিয়ে তাদের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং। হংকংয়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা আগের বছরের তুলনায় কমেছে ২৮ শতাংশ। এর মধ্যে করোনাভাইরাসের কারণে এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী কয়েক হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, রয়ানএয়ার ও ইজিজেট এরই মধ্যে ইতালির সঙ্গে এপ্রিলের ফ্লাইট বাতিল করেছে। নরওয়েজিয়ান এয়ার ও আমেরিকান এয়ারলাইনসও অনেক ফ্লাইট বাতিল করেছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কোরিয়ান এয়ারের জন্য টিকে থাকাই কঠিন হতে পারে বলে এক ঘোষণায় কর্মচারীদের জানিয়েছে কোম্পানিটি। করোনাভাইরাসে দক্ষিণ কোরিয়া বেসামাল হয়ে পড়েছে। ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ভ্রমণে কড়াকড়ি করা হচ্ছে। কোরিয়ান এয়ার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ৮০ শতাংশ বেশি কমিয়ে দিয়েছে এবং কর্মীদের স্বেচ্ছায় ছুটি নিতে উৎসাহিত করছে।

ঘোষণায় কোরিয়ান এয়ারের প্রেসিডেন্ট উ কি হং বলেছেন, ‘এ সংকট কতদিন চলবেÑতা ধারণা করা যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘তবে এ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারি, যখন আমরা আর কোম্পানি টিকিয়ে রাখার নিশ্চয়তা দিতে পারব না।’

কোরিয়ান এয়ারের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা ৫১ বছর ধরে অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে পার হচ্ছি এবং আমরা একসঙ্গে এ সংকটও মোকাবিলা করতে পারব বলে আস্থা আছে।’

কেবল কোরিয়ান এয়ারই নয়, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন এয়ারলাইনসও ভ্রমণে কড়াকড়ির কারণে যাত্রী সংকটে আছে। ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে অনেকে ভ্রমণে উৎসাহী হচ্ছেন না।

নরওয়ে এয়ার আগামী তিন মাসে প্রায় তিন হাজার ফ্লাইট কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া, মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার কান্তাস এয়ারও বলেছে, তারা এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে আরও ফ্লাইট কমাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট প্রায় ২৫ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি।

এরই মধ্যে মালয়েশিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এয়ার এশিয়া যাত্রী টানতে বিশাল ডিসকাউন্ট দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের সংস্থায় ভ্রমণে যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো ‘সিট ফেয়ার’ নিচ্ছে না। এয়ার এশিয়া এটিকে বলছে ‘বিগ সেল। এর আওতায় অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশে ভ্রমণে এয়ার এশিয়া যাত্রীদের কাছ থেকে বিমানের আসনের জন্য কোনো ভাড়া নিচ্ছে না। তবে নিয়মমাফিক এয়ারপোর্ট ট্যাক্সের মতো অন্যান্য ফি দিতে হবে যাত্রীদের।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..