খবর

বণিক বার্তা সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: কক্সবাজারে একটি হোটেল নিয়ে ‘বানোয়াট, মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে ঢাকার দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদকের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের আদালতে মানহানির মামলা হয়েছে।

কক্সবাজারে পাঁচতারকা হোটেল রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডের পক্ষে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান সোমবার ময়মনসিংহের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা করেন।

মামলায় বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঙ্গে প্রতিবেদক মেহেদী হাসান রাহাতকেও আসামি করা হয়েছে।

পরে শুনানি নিয়ে বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল হাই দুইজনকে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী পীযূষ কান্তি সরকার।

গত ১৩ জানুয়ারি বণিক বার্তার প্রথম পাতায় ‘রয়েল টিউলিপে বিনিয়োগ করে বিপাকে আইসিবি’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ লিমিটেড (আইসিবি) ২০১৭ সালে বন্ডের মাধ্যমে রয়েল টিউলিপ নামে পরিচিত সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডে ৩২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে।

এ অর্থ ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি হোটেলটির নির্মাণকাজে ব্যয় করা হয়। আইসিবির কাছ থেকে অর্থ নেয়ার দুই বছর পর প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকেও তহবিল সংগ্রহ করে হোটেলটি। এভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ নিয়ে ব্যবসা করলেও আইসিবিকে কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করছে না প্রতিষ্ঠানটি। রয়েল টিউলিপের বন্ড কিনে আরো বিপাকে পড়েছে তারল্য সংকটে থাকা আইসিবি।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের ইনানীতে হোটেল রয়েল টিউলিপ ২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। হোটেলটির চেয়ারম্যান লুসি আখতারি মহল। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন তার স্বামী মো. আমিনুল হক। তিনি সান শাইন অ্যাপারেলস ঢাকা এবং তিন তারকা হোটেল সি ক্রাউনেরও চেয়ারম্যান।

পাশাপাশি শামিম এন্টারপ্রাইজ (প্রা.) লিমিটেড, শামিম এন্টারপ্রাইজ প্রোপার্টিজ লিমিটেড, এলিট অটো ব্রিকস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও আমিনুল হক। এছাড়া ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) অনারারি ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে রয়েছেন মো. আমিনুল হকের ছোট ভাই ইকরামুল হক। বর্তমানে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্বে থাকা ইকরামুল হক হোটেল সি ক্রাউন, শামিম এন্টারপ্রাইজ (প্রা.) লিমিটেড ও শামিম এন্টারপ্রাইজ প্রোপার্টিজ লিমিটেডেরও পরিচালক। হোটেল রয়েল টিউলিপের আরেক পরিচালক হলেন মো. আমিনুল হকের পুত্রবধূ সারজানা ইসলাম।

আইনজীবী পীযুষ কান্তি সরকার বলেন, “মো. আমিনুল হক এবং তার ছোট ভাই মো. ইকরামুল হকের পরিবারকে সমাজে হেয় এবং তাদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করতে বিবাদীরা পরষ্পর যোগসাজসে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সুকৌশলে মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক, মানহানিকর উদ্দেশ্যমূলক প্রতিবেদন দৈনিক বণিক বার্তা পত্রিকার প্রিন্ট ভার্সন ও অনলাইনে প্রকাশ ও প্রচার করেছেন।”

এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করায় ফৌজদারি দণ্ডবিধি ৫০০ (মানহানি) ও ৫০১ (মানহানিকর বলে বিদিত বস্তু মুদ্রণ বা খোদাইকরন) ধারায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।সূত্র বিডি নিউজ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..