বধূবেশেই পরীক্ষার হলে কনে

শেয়ার বিজ ডেস্ক: দুই হাতে সোনার চুড়ি-গহনা, নাকে নথ, গায়ে জড়ানো লাল বেনারসি। ঠিক যেন বিয়ের পিঁড়িতে বসা কোন বধূ। কিন্তু এভাবে বিয়ের পিঁড়িতে নয়, বরং পরীক্ষার হলে বসেছিলেন শিবাঙ্গী বাগথারিয়ার নামের এক তরুণী।

এমনই এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে ভারতের রাজকোটের শান্তি নিকেতন কলেজে। কলেজের ব্যাচেলর অব সোস্যাল ওয়ার্কস-এর পঞ্চম সেমেস্টার এমন বধূ সাজে বাকি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরীক্ষা দেন শিবাঙ্গী।

জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনস্টাগ্রামে ‘ভাইরাল ভায়ানি’ নামে এক ইউজার শেয়ার করেছেন শিবাঙ্গীর এমন পরীক্ষা দেয়ার ভিডিও। শেয়ার করার সঙ্গে সঙ্গেই ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। পরবর্তীতে ভারতীয় সংবাদটি ভাইরাল হয়।

শিবাঙ্গীও বলছেন, আমার বিয়ের দিন ঠিক হয়ে যাওয়ার পরই পরীক্ষার তারিখ দেয়। দিনটি বাতিল করা আমাদের পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিল না। আর বিয়ের দিন সকাল থেকেই প্রথা মেনে পাত্র-পাত্রীর বাড়িতে নানা অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। তাতে কনেকে অংশ নিতে হয়। আমি ব্যতিক্রম নই। তাই বিয়ের পোশাক পরে পরীক্ষা দিয়েছি। তা দেখে কেউ তির্যক মন্তব্য করতেই পারেন। তবে আমি মনে করি, বিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে পারে। কিন্তু পরীক্ষা নয়।

শিবাঙ্গীর স্বামীও ব্যাচেলার অব সোশ্যাল ওয়ার্ক (বিএসডব্লিউ) বিভাগের শান্তিনিকেতন কলেজের শিক্ষার্থী। এদিন তাদের পঞ্চম সেমিস্টারের পরীক্ষা ছিল। শিবাঙ্গী কনের সাজে সেই পরীক্ষা দেওয়ার পরই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। তিনি বলেন, এছাড়া আমার কাছে আর কোনো উপায় ছিল না। হবু স্বামীর পরিবার থেকেও কোনো আপত্তি ওঠেনি। বরং তারা আমাকে উৎসাহ যুগিয়েছেন।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিবাঙ্গীর বিয়ের ভিডিও শেয়ার করে নানা জন নানা মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, এতটা বাড়াবাড়ি না করলেই কি নয়! শিবাঙ্গীর ইচ্ছেটা অতিরঞ্জিত!’

তাদের পাল্টা উত্তর দিয়ে অন্য একটি অংশ বলছে, ‘নিন্দুকদের কথায় কান দিও না শিবাঙ্গী। বিয়ের চেয়ে শিক্ষাকে বড় করে দেখানোর তোমার এই যে প্রয়াস, তাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। অন্য একজনের কথায়, নিজের চোখ দিয়ে অপরকে বিচার করা বন্ধ করুন। শিক্ষাকে শিবাঙ্গী যে গুরুত্ব দিয়েছেন, সেটাকেই বড় করে দেখুন।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯০  জন  

সর্বশেষ..