সম্পাদকীয়

বন্ড বাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য সৃষ্টি করতে হবে

দীর্ঘমেয়াদি তহবিল সংগ্রহে বন্ডের বাজার সম্প্রসারণ এখন অপরিহার্য। কিন্তু যৎসামান্য বৈচিত্র্য নিয়ে বন্ড বাজার বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। দেশের বন্ড বাজার নিয়ে করপোরেট খাতের রয়েছে হতাশা। দেশের এক বৃহৎ সংখ্যক মানুষ ইসলামি অর্থনীতিতে কারবার করতে আগ্রহী হওয়ায় প্রচলতি ধারার বন্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে বন্ড বাজারে সব শ্রেণির বিনিয়োগকারীর সমাবেশ ঘটাতে না পারলে বাজার সম্প্রসারণ হবে না। তাই পণ্যের বৈচিত্র্য সৃষ্টির বিকল্প নেই। এ-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শ বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ আশু উদ্যোগ নেবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

দেশে বড় বড় সরকারি প্রকল্প চলছে। আর ব্যাংকে চলছে তারল্য সংকট। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতাও দ্বিধান্বিত। শেয়ারবাজারের প্রতি অনীহা মারাত্মক সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। তবে বেসরকারি কিছু ব্যাংক বন্ড ইস্যু করলেও সেগুলোর প্রতি ইউনিটের দাম নির্ধারণ করা হয় এক কোটি টাকা।

এদিকে বন্ড ব্যবস্থার দুর্বলতায় বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকের ওপর নির্ভর করছে সরকার। ফলে ব্যাংক খাতে চাপ ও পদ্ধতিগত ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। বন্ডবাজার এখানে বিকল্প সমাধান হিসেবে উপযুক্ত। বিশেষত বড় প্রকল্প অর্থায়নে এ বাজার হতে পারে সম্ভাবনাময় উৎস। দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়া, চিন, হংকংয়ের মতো দেশ বন্ডবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে চলে। এছাড়া অবকাঠামো উন্নয়নে ভারত সরকারও বন্ড মার্কেট থেকে বিনিয়োগ সংগ্রহ করে। এটা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ায়। কাজেই সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ডবাজার উন্নয়নের রূপরেখা দিয়েছিল। সেই রূপরেখা বাস্তবায়নে ক্যাশ ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি, মধ্যবর্তী অকশনপঞ্জির অনুপস্থিতি, উš§ুক্ত সঞ্চয়পত্র বিক্রয়সীমা, বন্ডে অপর্যাপ্ত স্থিতি, সিকিউরিটিজের বৃহৎ পরিধি, বেঞ্চমার্ক সিকিউরিটিজের অভাব, অপর্যাপ্ত দ্বিমুখী দর উদ্ধৃতি, কেন্দ্রীয় কাউন্টার পার্টির অংশগ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠিত পেনশন এবং ভবিষ্যৎ তহবিল ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার ভেতর দিয়েই কেবল বন্ডবাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে না। বন্ডবাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে। এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন গতকাল দৈনিক শেয়ার বিজ প্রকাশ করেছে।

বর্তমান বাজারে সরকারি ও করপোরেট বন্ডে বৈচিত্র্য নেই। রেসিডিনশিয়াল মর্টগেজ-ব্যাকড সিকিউরিটিজ, গ্রিন বন্ড ও বিভিন্ন প্রকল্পভিত্তিক বন্ড চালুর বিষয়ে প্রায়োগিক গবেষণা চালানো অত্যাবশ্যকীয়। পুনঃবিনিয়োগে ঝুঁকি রোধে স্ট্রিপ বন্ড, ট্রেজারি বন্ড, ইন্টারেস্ট রেট সোয়াপ বন্ড এবং অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা সৃষ্টিতে ক্রেডিট ডিফল্ট সোয়াপ বন্ড চালু করা জরুরি। দেশের এক-চতুর্থাংশ ব্যাংকিং হচ্ছে ইসলামি শরিয়ার ভিত্তিতে; সে অনুযায়ী সুকুক বা ইসলামি বন্ড চালু না হলে একটি বড় সংখ্যক গ্রাহক বন্ড বাজারে আসবে না। তবে ইসলামি শরিয়া বিচারে সুকুকের পাশাপাশি আরও যেসব বন্ড চালু করা যায় তা নিয়ে গবেষণা ও সিদ্ধান্ত জরুরি। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট হার যোগ হলে ইনফ্লুয়েশন ইনডেক্স বন্ডে বিদেশিরা আগ্রহ দেখাবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য ফি, চার্জ ও শুল্ককর কমানোও জরুরি।

সর্বশেষ..