সম্পাদকীয়

বন্ড মার্কেটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুপারিশ বাস্তবায়ন হোক

দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় বড় সরকারি প্রকল্প চলছে। ব্যাংক খাতেও রয়েছে তারল্য সংকট। অথচ দীর্ঘমেয়াদি তহবিল সংগ্রহে বন্ড মার্কেট গুরুত্ববহ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু দেশের বন্ড মার্কেটের অবস্থা নাজুক বহুদিন ধরেই। আবার করপোরেট খাত বন্ড মার্কেটের ওপর হতাশ হয়ে বাজার থেকে আমানত সংগ্রহে বারংবার প্রচেষ্টা নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি ও করপোরেট উভয় বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক যে রূপরেখা দাঁড় করিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিতে হবে বলে আমরা মনে করি।

এ বিষয়ে গতকাল শেয়ার বিজের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বন্ড মার্কেট উন্নয়ন রূপরেখায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত কমিটি গোটা আর্থিক খাতে সম্ভাবনাময়ী বন্ডের নাম সুপারিশ করেছে। তাছাড়া এই বন্ড বাজার সম্প্রসারণের প্রতিবন্ধকতা বলে উল্লেখ করে উত্তরণের উপায় বাতলে দেওয়া হয়েছে। বন্ডভেদে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি ও পরামর্শও এখানে এসেছে। তাই সুপারিশমালাটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা হিসেবেই বিবেচনা করছে সংশ্লিষ্টজনেরা। কার্যত দুর্বল বন্ড মার্কেটের কারণে ব্যাংকগুলো আমানত ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে না। আবার বন্ড ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে করপোরেট সেক্টর অর্থ সংগ্রহে ব্যাংকের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে ব্যাংক খাতের ওপর চাপ যেমন বেড়ে চলেছে, তেমনি একটি পদ্ধতিগত ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে দেশের সব সরকারি ব্যাংকসহ বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়েছে। আবার সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে যে মাত্রায় ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি ঋণ সংগ্রহ করেছে। বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প চলমান অবস্থায়, তাই শক্তিশালী বন্ড বাজারের বিকল্প থাকে না। অস্ট্রেলিয়া, চীন, হংকংসহ বিভিন্ন দেশ এখন বন্ড মার্কেট থেকেই অর্থ সংগ্রহ করে চলেছে, কেননা একটি কার্যকর বন্ড বাজার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়াতে পারে। তাতে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ক্যাশ ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি, মধ্যবর্তী অকশন পঞ্জির অনুপস্থিতি, উম্মুক্ত সঞ্চয়পত্র বিক্রয়সীমা, বন্ডে অপর্যাপ্ত স্থিতি, সিকিউরিটিজের বড় অঙ্ক, বেঞ্চমার্ক সিকিউরিটিজের অভাব, অপর্যাপ্ত দ্বিমুখী দর উদ্ধৃতি, কেন্দ্রীয় কাউন্টার পার্টির অংশগ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠিত পেনশন ও ভবিষ্যৎ তহবিলের অভাব কাটিয়ে উঠতে না পারলে বন্ডবাজারের উন্নয়ন করা সম্ভব হবে না। বন্ডবাজার ভালোভাবে বিকশিত হলে মিসিং মিডল যেমন থাকবে না, তেমনি আমানত ও শেয়ারবাজারে যাদের অনীহা তারা বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এই সার্বিক মঙ্গলের কথা মাথায় রেখে প্রস্তাবিত সুপারিশমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হোক।

সর্বশেষ..