প্রচ্ছদ শেষ পাতা

বন্ড মার্কেট উন্নয়নে রূপরেখা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘমেয়াদি তহবিল সংগ্রহের জন্য দেশের বন্ড মার্কেট উন্নয়নের পূর্ণাঙ্গ একটি রূপরেখা দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে গোটা আর্থিক খাতে কোন কোন ধরনের বন্ডের সম্ভাবনা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বন্ডের বাজার সম্প্রসারণে কী কী প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং সেবব প্রতিবন্ধকতা কীভাবে দূর করা যাবে, তা নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। পাশাপাশি কোন কোন বন্ড ব্যবস্থাপনায় কোন কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থা তদারকি করবে, সে বিষয়টিও সুস্পষ্ট করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত জুনে বাংলাদেশের বন্ড মার্কেট উন্নয়নের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. খুরশিদ আলমের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি কর্ম-কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ওই কমিটি সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকগুলোই এখনও ঋণ-সংস্থানের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে কাজ করছে। এর ফলে একটি পদ্ধতিগত ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। 

একটি কার্যকর বন্ড মার্কেট এই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়িয়ে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরকারি ও করপোরেট দুই ধরনের বন্ডের ওপরই জোর দিতে হবে। সরকারি বন্ডের মধ্যে রয়েছে ট্রেজারি বন্ড, টি-বিল, জাতীয় সঞ্চয়পত্র প্রভৃতি। এসব সিকিউরিটিজের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি মার্কেটও বিদ্যমান। সেকেন্ডারি মার্কেটে আবার ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি), ট্রেড ওয়ার্ক স্টেশন (টিডব্লিউএস), জিএসওএম ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ও সেকেন্ডারি ট্রেডিং ভলিউম অব গভর্নমেন্ট সিকিউরিটিজ অপারেশন রয়েছে।

২০১৮ সালের জুন শেষে ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের দায়ের স্থিতি দাঁড়ায় এক লাখ ৬১ হাজার ৭৬৭ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ খাতে ৭৭ শতাংশ বিনিয়োগ করে নেতৃস্থানীয় অবস্থানে ছিল ব্যাংক খাত। ১৫ শতাংশ বিনিয়োগ ছিল বিমা ও ভবিষ্য তহবিলের। অন্যদিকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে সঞ্চয়পত্রের ঋণের স্থিতি ছিল প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ৯৪টি কোম্পানি করপোরেট বন্ড ছেড়ে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে, যার স্থিতি ৩৭ হাজার ২১২ কোটি টাকা। একই সময়ে করপোরেট ডিবেঞ্চার ছেড়েছে ১৬টি কোম্পানি, স্থিতির পরিমাণ এক হাজার ১১৯ কোটি টাকা। মোট করপোরেট বন্ড ও ডিবেঞ্চার ইস্যু করা কোম্পানির সংখ্যা দাঁড়ায় ১১০-এ এবং মোট স্থিতি দাঁড়ায় ৩৮ হাজার ৩৩২ কোটি টাকায়।

২০০৭ সালে ৩০০ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য ইসলামী ব্যাংক মুদারাবা পারপেচুয়াল বন্ড ইস্যুর ঘোষণা দেয়। এসিআই ২০ শতাংশ কনভার্টেবল জিরো কুপন বন্ড ছেড়ে ১০৭ কোটি টাকা উত্তোলনের ঘোষণা দেয় ২০১০ সালে।  ব্র্যাক ব্যাংক ২০১১ সালে ২০ শতাংশ সাব-অর্ডিনেট বন্ড ছেড়ে ৩০০ কোটি টাকা উত্তোলনের ঘোষণা দেয়।

বন্ড মার্কেটের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে ওই প্রতিবেদনে বেশ কিছু বিষয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো, যথাযথ ক্যাশ ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, মধ্যবর্তী অকশন ক্যালেন্ডার না থাকা, সঞ্চয়পত্রের বিক্রির সীমা উš§ুক্ত, বন্ডের স্থিতির পর্যাপ্ততার অভাব, বড় অঙ্কের সিকিউরিটিজ, বেঞ্চমার্ক সিকিউরিটিজের অভাব, দ্বিমুখী দর উদ্ধৃতির অপার্যপ্ততা, কেন্দ্রীয় কাউন্টার পার্টির অংশগ্রহণ, প্রতিষ্ঠিত পেনশন ও ভবিষ্য তহবিলের অভাবসহ বেশ কিছু বিষয়ে পুনর্গঠন-সংক্রান্ত বিষয়ে কর্মকমিটি তাদের সুপারিশ তুলে ধরেছে।

কর্মকমিটির অন্যতম সদস্য মো. আমিনুর রহমান চৌধুরী শেয়ার বিজকে বলেন, ‘নির্ধারিত আয়ের সিকিউরিটিজ মার্কেট বা বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে এই প্রতিবেদনে বিষদভাবে আলোকপাত করা হয়েছে। এখানে যেসব সুপারিশ রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে বন্ড মার্কেটের বড় ধরনের উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা যায়।’

সর্বশেষ..