মার্কেটওয়াচ

বন্ড মার্কেট গতিশীল করতে করহার কমাতে হবে

বন্ড মার্কেট গতিশীল করা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। তবে এখানে কিছু বাধা রয়েছে। বিশেষ করে বন্ডের আয়ের ওপর এখন ৩০ শতাংশ কর দিতে হয়, এটি কমাতে হবে। ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ইকুইটি কেনাবেচা ছাড়া আরও কোনো পণ্য নেই। তাদের নতুন নতুন পণ্য আনার চিন্তা করতে হবে। যদি বাজারে নতুন নতুন পণ্যের বৈচিত্র্য আনা না যায় তাহলে বাজার সম্প্রসারিত হবে না। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।
হাসিব হাসানের গ্রন্থনা ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুঁজিবাজারের টেকনিক্যাল এনালিস্ট মো. রহমত উল্লাহ এবং লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের হেড অব ব্রাঞ্চ এসএম নাসির উদ্দিন।
মো. রহমত উল্লাহ বলেন, বাজারে টার্নওভার অনেক কম এবং এ টার্নওভার দিয়ে মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলো গতিশীল রাখা বেশ কঠিন। তবে স্বল্পমূলধনি কোম্পানিগুলোকে কিছুটা গতিশীল দেখা যাচ্ছে। আবার মৌলভিত্তির চেয়ে স্বল্পমূলধনি কোম্পানির সংখ্যা তুলনামূলক অনেক বেশি। যেহেতু বাজারের টার্নওভার কম এবং মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারের দর নিম্ন গতিতে রয়েছে তাই স্বল্পমূলধনি কোম্পানির শেয়ারদর কিছুটা গতিশীল অবস্থানে রয়েছে। এটি আসলে পর্যায়ক্রমে চলমান থাকবে।
এসএম নাসির উদ্দিন বলেন, স্বল্পমূলধনি ও জেড ক্যাটেগরির কোম্পানি দিয়ে বাজার সবসময় স্থিতিশীল বা গতিশীল অবস্থানে নেওয়া সম্ভব নয়। বাজারকে গতিশীল অবস্থানে নিতে হলে ভালো মানের কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কারণ এখানে বিদেশি, সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভৃতি বিনিয়োগকারী রয়েছে। তাদের বিনিয়োগে উৎসাহী করতে ভালো কোম্পানি আনা ছাড়া বিকল্প পথ নেই। বাজারে বিনিয়োগ করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে। কিন্তু পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আস্থা পাচ্ছে না। কারণ বিভিন্ন সময়ে তাদের সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ করে লোকসান হয়েছে। যখন বাজার স্থিতিশীল অবস্থানে আসবে এবং বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পাবে তখনই ওই অর্থ আবার বিনিয়োগ করা হবে। যখন বাজার খারাপ অবস্থানে যেতে থাকে তখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা কাজ করে এবং আতঙ্কিত হয়ে বা অন্যের কথা শুনে শেয়ার বিক্রি করে দেয়। ফলে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তবে আগের চেয়ে বিনিয়োগকারীরা এখন অনেক সতর্ক।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বেশ ভূমিকা রয়েছে। রাজস্ব বোর্ড, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসি, ডিএসই, সিএসইসহ যারা বাজারসংশ্লিষ্ট রয়েছেন, তাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজার ভালো করা সম্ভব। যদি তাদের মধ্যে সমন্বয়ের সমস্যা থেকে যায়, তাহলে বাজার ভালো করা সম্ভব নয়। সব ব্যাংকে ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার জন্য আমানতের সুদহার ছয় শতাংশ ও ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছে। কথা হচ্ছে এখন সরকারি বন্ড ও সঞ্চয়পত্রে সুদের হার সমন্বয় করতে হবে কারণ ব্যাংকের চেয়ে সুদহার অনেক বেশি রয়েছে। এখানে আগে সমন্বয় করতে হবে। যদি এ দুটি বিষয়ে সমন্বয় না করে নয়ছয় করা হয় তাহলে ব্যাংকের জন্য বিপরীতমুখী হয়ে যাবে। দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন হচ্ছে, জিডিপির গ্রোথ এবং বাজেটের আকার বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে তুলনা করলে এখন পুুঁজিবাজারের টার্নওভার হওয়ার কথা ছিল ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা কিন্তু সেখানে বাজারে এক থেকে দুই হাজার কোটি টাকা ট্রেডিং হচ্ছে না। এটা আসলে কিছু কিছু কারণে হয়নি। বিশেষ করে ভালো মানের কোম্পানিগুলো তেমন আনতে পারছে না। যে কোনো মূল্যে কোম্পানিগুলোকে আনতে হবে। আবার যদি তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির ট্যাক্স দেওয়ার হার একই থাকে অর্থাৎ অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানি বেশি সুবিধা পায়, সেক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে হতাশা কাজ করাটাই স্বাভাবিক। বন্ড মার্কেট গতিশীল করা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। তবে এখানে কিছু বাধা রয়েছে। বিশেষ করে বন্ডের আয়ের ওপর এখন ৩০ শতাংশ কর দিতে হয়, এটি কমাতে হবে। ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ইকুইটি কেনাবেচা ছাড়া আরও কোনো পণ্য নেই। তাদের নতুন নতুন পণ্য আনার চিন্তা করতে হবে। যদি বাজারে নতুন নতুন পণ্যের বৈচিত্র্য আনা না যায় তাহলে বাজার সম্প্রসারিত হবে না।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..